পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমেদাবাদ । X • * অনিবাৰ্য্য। কাচ বয়সে অল্পসম্বলে অদ্ভুত কীৰ্ত্তি করিতে না পারিলে মন স্থির হয় না, কাজেই ভঙ্গিমার আতিশয্য, এবং প্রতিপদেই নিজের স্বাভাবিক শক্তিকে ও সেই সঙ্গে সত্যকে সৌন্দর্য্যকে বহুদূরে লঙ্ঘন করিয়া যাইবার প্রয়াস রচনার মধ্যে প্রকাশ হইয় পড়ে। এই অবস্থা হইতে প্রকৃতিস্থ হওয়া, নিজের যতটুকু ক্ষমতা ততটুকুর প্রতি আস্থালাভ করা কালক্রমেই ঘটিয়া থাকে । যাহাই হৌক ভারতীর পত্রে পত্রে আমার বাল্যলীলার অনেক লজ্জা ছাপার কালির কালিময় অঙ্কিত হইয়া তাছে। কেবলমাত্ৰ কঁাচা লেখার জন্য লজ্জা নহে—উদ্ধত অবিনয়, অদ্ভুত আতিশয্য ও সাড়ম্বর কৃত্রিমতার জন্য লজ্জা । যাহা লিখিয়াছিলাম তাহার অধিকাংশের জন্য লজ্জ বোধ হয় বটে কিন্তু তখন মনের মধ্যে যে একটা উৎসাহের বি ফ্লার সঞ্চারিত হইয়াছিল নিশ্চয়ই তাহার মূল্য সামান্য নহে। সে কালটা ত ভুল করিবারই কাল বটে কিন্তু বিশ্বাস করিবার, আশা করিবার, উল্লাস করিবারও সময় সেই বাল্যকাল । সেই ভুলগুলিকে ইন্ধন করিয়া যদি উৎসাহের আগুন জ্বলিয়া থাকে তবে যাহা ছাই হইবার তাহা ছাই হইয়া যাইবে কিন্তু সেই অগ্নির যা কাজ তাহা ইহজীবনে কখনই ব্যর্থ হইবে না । আমেদাবাদ । ভারতী যখন দ্বিতীয় বৎসরে পড়িল মেজদাদা প্রস্তাব করিলেন আমাকে তিনি বিলাতে লইয়। যাইবেন । পিতৃদেব যখন সম্মতি দিলেন তখন আমার ভাগ্যবিধাতার এই আরেকটি অযাচিত বদান্যতায় আমি বিস্মিত হইয় উঠিলাম । বিলাতযাত্রার পূর্বে মেজদাদা আমাকে প্রথমে আমেদাবাদে লইয় গেলেন। তিনি সেখানে জজ ছিলেন । আমার বৌঠাকরুণ এবং ছেলেরা তখন ইংলণ্ডে—মুতাং বাড়ি একপ্রকার জনশূন্য ছিল ।