পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিলাত । > > ○ কিন্তু সমুদ্রের এপারের ঘর হইতে বাহির হইয়া সমুদ্রের ওপারের ঘরে প্রবেশ করিবার জন্য ত আমি যাত্রা করি নাই। কথা ছিল পড়াশুনা করিব, ব্যারিস্টর হইয় দেশে ফিরিব। তাই একদিন ব্রাইটনে একটি পারিক স্কুলে আমি ভৰ্ত্তি হইলাম। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রথমেই আমার মুখের দিকে তাকাইয় ফলিয়া উঠিলেন, বাহবা, তোমার মাথাটা ত চমৎকার! (What a splendid head you have ! ) q# (sfỡ #<!T#I GI sIRTt# sUR sĩfUR তাহার কারণ এই যে, বাড়ীতে আমার দর্পহরণ করিবার জন্য র্যাহার প্রবল অধ্যবসায় ছিল—তিনি বিশেষ করিয়৷ আমাকে এই কথাটি বুঝাইয়া দিয়াছিলেন যে আমার ললাট এবং মুখ শ্ৰী পৃথিবীর অন্য অনেকের সহিত তুলনায় কোনোমতে মধ্যমশ্রেণীর বলিয় গণ্য হইতে পারে। আশা করি এটাকে পাঠকেরা আমার গুণ বলিয়াই ধরিবেন যে আমি তাহার কথা সম্পূর্ণ বিশ্বাস করিয়াছিলাম এবং আমার সম্বন্ধে স্থ&িকৰ্ত্তার নানাপ্রকার কাপণ্যে দুঃখ অনুভব করিয়া নীরব হইয়৷ থাকিতাম । এইরূপে ক্রমে ক্রমে তাহার মতের সঙ্গে বিলাতবাসীর মতের দুটো একটা বিষয়ে পার্থক্য দেখিতে পাইয়া অনেকবার আমি গম্ভীর হইয়া ভাবিয়াছি হয় ত উভয় দেশের বিচারের প্রণালী ও আদর্শ সম্পূর্ণ বিভিন্ন । ব্রাইটনের এই স্কুলের একটা জিনিষ লক্ষ্য করিয়া আমি বিস্মিত হইয়াছিলাম—ছাত্রেরা আমার সঙ্গে কিছুমাত্র রূঢ় ব্যবহার করে নাই। অনেক সময়ে তাহারা আমার পকেটের মধ্যে কমলালেবু আপেল প্রভৃতি ফল গুজিয়া দিয়া পলাইয়া গিয়াছে । আমি বিদেশী বলিয়াই আমার প্রতি তাহদের এইরূপ আচরণ ইহাই আমার বিশ্বাস । এ ইস্কুলেও আমার বেশি দিন পড়া চলিল না—সেটা ইস্কুলের দোষ নয়। তখন তারক পালিত মহাশয় ইংলণ্ডে ছিলেন। তিনি বুঝিলেন এমন করিয়া আমার কিছু হইবে না। তিনি মেজদাদাকে বলিয়া আমাকে লণ্ডনে আনিয়া প্রথমে একটা বাসায় একলা ছাড়িয়া দিলেন। সে বাসাটা ছিল রিজেণ্ট উষ্ঠানের সম্মুখেই । তখন ঘোরতর শীত। সম্মুখের বাগানের গাছগুলায় (t to