পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>>b" জীবন-স্মৃতি । র্তাহার পশমের জুতাজোড়াটি স্বহস্তে গুছাইয়া রাখিতেন। ডাক্তার স্বটের কি ভাল লাগে আর না লাগে, কোন ব্যবহার তাহার কাছে প্রিয় বা অপ্রিয় সে কথা মুহুর্তের জন্যও র্তাহার স্ত্রী ভুলিতেন না। প্রাতঃকালে একজনমাত্র দাসীকে লইয়া নিজে উপরের তলা হইতে নীচের রান্নাঘর, সিড়ি এবং দরজার গায়ের পিতলের কাজগুলিকে পর্য্যন্ত ধুইয়া মাজিয়া তক্তকে ঝকঝকে করিয়া রাখিয়া দিতেন । ইহার পরে লোকলৌকিকতার নানা কৰ্ত্তব্য ত আছেই। গৃহস্থালীর সমস্ত কাজ সারিয়া সন্ধ্যার সময় আমাদের পড়াশুনা গান বাজনায় তিনি সম্পূর্ণ যোগ দিতেন ; অবকাশের কালে আমোদ প্রমোদকে জমাইয়া তোলা, সেটাও গৃহিণীর কৰ্ত্তব্যেরই অঙ্গ। মেয়েদের লইয়া একএকদিন সন্ধ্যাবেলায় সেখানে টেবিল চালা হইত। আমরা কয়েকজনে মিলিয় একটা টিপাইয়ে হাত লাগাইয় থাকিতাম, আর টিপাইটা ঘরময় উন্মত্তের মত দাপাদাপি করিয়া বেড়াইত। ক্রমে এমন হইল আমরা যাহাতে হাত দিই তাহাই নড়িতে থাকে। মিসেস্ স্কটের এটা যে খুব ভাল লাগিত তাহা নহে। তিনি মুখ গম্ভীর করিয়া একএকবার মাথা নাড়িয়া বলিতেন, আমার মনে হয় এটা ঠিক বৈধ হইতেছে না। কিন্তু তবু তিনি আমাদের এই ছেলেমানুষিকাণ্ডে জোর করিয়া বাধা দিতেন না, এই অনাচার সহ করিয়া যাইতেন। একদিন ডাক্তার স্কটের লম্ব টুপি লইয় সেটার উপর হাত রাখিয়া যখন চালিতে গেলাম তিনি ব্যাকুল হইয়া তাড়াতাড়ি ছুটিয়া আসিয়া বলিলেন, না, ন, ও টুপি চালাইতে পারিবে না। র্তাহার স্বামীর মাথার টুপিতে মুহূর্বের জন্য সয়তানের সংস্রব ঘটে ইহা তিনি সহিতে পারিলেন না । এই সমস্তের মধ্যে একটি জিনিষ দেখিতে পাইতাম, সেটি স্বামীর প্রতি র্তাহার ভক্তি । তাহার সেই আত্মবিসর্জনপর মধুর নম্রতা স্মরণ করিয়া স্পষ্ট বুঝিতে পারি স্ত্রীলোকের প্রেমের স্বাভাবিক চরম পরিণাম ভক্তি । যেখানে তাহাদের প্রেম আপন বিকাশে কোনো বাধা পায় নাই সেখানে তাহা আপনিই পূজায় আসিয়া ঠেকে। যেখানে ভোগবিলাসের আয়োজন প্রচুর,