পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিলাত । SX2 যেখানে আমোদপ্রমোদেই দিনরাত্রিকে আবিল করিয়া রাখে সেখানে এই প্রেমের বিকৃতি ঘটে ; সেখানে স্ত্রীপ্রকৃতি আপনার পূর্ণ আনন্দ পায় না। কয়েক মাস এখানে কাটিয়া গেল। মেজদাদাদের দেশে ফিরিবার সময় উপস্থিত হইল। পিতা লিখিয়া পাঠাইলেন আমাকেও তাহণদের সঙ্গে ফিরিতে হইবে । সে প্রস্তাবে আমি খুসি হইয়া উঠিলাম। দেশের আলোক দেশের আকাশ আমাকে ভিতরে ভিতরে ডাক দিতেছিল। বিদায়গ্রহণকালে মিসেস্ স্কট আমার দুই হাত ধরিয়া কাদিয়া কহিলেন, এমন করিয়াই যদি চলিয়৷ যাইবে তবে এত অল্পদিনের জন্য তুমি কেন এখানে আসিলে ?—লণ্ডনে এই গৃহটি এখন আর নাই—এই ডাক্তার-পরিবারের কেহ বা পরলোকে কেহ বা ইহলোকে কে কোথায় চলিয়া গিয়াছেন তাহার কোনো সংবাদই জানি না কিন্তু সেই গৃহটি আমার মনের মধ্যে চিরপ্রতিষ্ঠিত হইয়া আছে। একবার শীতের সময় আমি টনব্রিজ, ওয়েলস সহরের রাস্ত দিয়া যাইবার সময় দেখিলাম একজন লোক রাস্তার ধারে দাড়াইয়া আছে ; তাহার ছেড়া জুতার ভিতর দিয়া পা দেখা যাইতেছে, পায়ে মোজা নাই, বুকের খানিকটা খোলা । ভিক্ষ কর নিষিদ্ধ বলিয়া সে আমাকে কোনো কথা বলিল না, কেবল মুহূৰ্ত্তকালের জন্য আমার মুখের দিকে তাকাইল। আমি তাহাকে যে মুদ্র দিলাম তাহা তাহার পক্ষে প্রত্যাশার অতীত ছিল। আমি কিছু দূর চলিয়া আসিলে সে তাড়াতাড়ি ছুটিয়া আসিয়া কহিল, “মহাশয় আপনি আমাকে ভ্রমক্রমে একটি স্বর্ণমুদ্র দিয়াছেন” বলিয়৷ সেই মুদ্রাটি আমাকে ফিরাইয়া দিতে উদ্যত হইল। এই ঘটনাটি হয় ত আমার মনে থাকিত ন৷ কিন্তু ইহার অনুরূপ আর একটি ঘটনা ঘটিয়াছিল । বোধ করি টর্কি ষ্টেসনে প্রথম যখন পৌছিলাম একজন মুটে আমার মোট লইয়া ঠিকাগাড়িতে তুলিয়া দিল। টাকার থলি খুলিয়৷ পেনিজাতীয় কিছু পাইলাম না, একটি অৰ্দ্ধক্রাউন ছিল সেইটিই তাহার হাতে দিয়া গাড়ি ছাড়িয়া দিলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখি সেই মুটে গাড়ির পিছনে ছুটিতে ছুটিতে গাড়োয়ানকে গাড়ি থামাইতে বলিতেছে। আমি মনে ভাবিলাম, সে আমাকে নির্বের্বাধ বিদেশী ঠাহরাইয়৷