পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>ペ8 জীবন-স্মৃতি । এইখানেই দুঃখের অবধি হইল না। নিমন্ত্রণকত্রী আমাকে জিজ্ঞাস করিলেন, রুবি আজ তুমি রাত্রিযাপন করিবে কোথায় ? এ প্রশ্নের জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। আমি হতবুদ্ধি হইয়া যখন র্তাহার মুখের দিকে তাকাইয়া রহিলাম, তিনি কহিলেন, রাত্রি দ্বিপ্রহরে এখানকার সরাই বন্ধ হইয়া যায় অতএব আর বিলম্ব না করিয়া এখনি তোমার সেখানে যাওয়া কৰ্ত্তব্য। সৌজন্যের একেবারে অভাব ছিল না—সরাই আমাকে নিজে খুজিয়া লইতে হয় নাই। লণ্ঠন ধরিয়া একজন ভূত্য আমাকে সরাইয়ে পৌছাইয়া দিল । মনে করিলাম, হয়ত শাপে বর হইল—হয়ত এখানে আহারের ব্যবস্থা আছে । জিজ্ঞাস করিলাম আমিষ হউক, নিরামিষ হউক, তাজা হউক, বাসি হউক কিছু খাইতে পাইব কি ? তাহার কহিল মদ্য যত চাও পাইবে খাদ্য নয়। তখন ভাবিলাম নিদ্রাদেবীর হৃদয় কোমল তিনি আহার না দিন বিস্মৃতি দিবেন। কিন্তু তাহার জগৎজোড় অঙ্গেও তিনি সে রাত্রে আমাকে স্থান দিলেন না । বেলেপাথরের মেজে ওয়াল ঘর ঠাণ্ড কনকন করিতেছে ; একটি পুরাতন খাট ও একটি জীর্ণ মুখধুইবার টেবিল ঘরের আসবাব। সকাল বেলায় ইঙ্গভারতী বিধবটি প্রাতরাশ খাইবার জন্য ডাকিয়া পাঠাইলেন । ইংরেজি দস্তুরে যাহাকে ঠাণ্ড খান বলে তাহারই তায়োজন । অর্থাৎ গতরাত্রির ভোজের অবশেষ আজ ঠাণ্ড ভাবস্থায় খাওয়া গেল । ইহারই অতি যৎসামান্য কিছু অংশ যদি উষ্ণ বা কবোঞ্চ আকারে কাল পাওয়া যাইত তাহা হইলে পৃথিবীতে কাহারো কোনো গুরুতর ক্ষতি হইত না—অথচ আমার নৃত্যটা ডাঙায়তোলা কইমাছের নৃত্যের মত এমন শোকাবহ হইতে পারিত না । আহারান্তে নিমন্ত্রণকত্রী কহিলেন, র্যাহাকে গান শুনাইবার জন্য তোমাকে ডাকিয়াছি তিনি অস্থস্থ শয্যাগত ; তাহার শয়নগৃহের বাহিরে দাড়াইয় তোমাকে গাহিতে হইবে । সিড়ির উপর আমাকে দাড় করাইয়া দেওয়া হইল। রুদ্ধদ্বারের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া গৃহিণী কহিলেন, ঐ ঘরে