পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>ミや জীবন-স্মৃতি । আমার মনে অনুতাপ উদয় হয়। কিন্তু তখনকার দিনে পাঠাভ্যাসের ব্যাঘাতপীড়াসম্বন্ধে আমার চিত্তে সহানুভূতির লেশমাত্র ছিল না। কোনোদিন আমার মাথা ধরে নাই এবং বিধাতার প্রসাদে বিদ্যালয়ের পড়ার বিঘ্নে আমাকে একটু কষ্ট দেয় নাই । এই লাইব্রেরি-মন্দিরে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন হাস্তালাপ চলিত বলিলে অত্যুক্তি হয়। সাহিত্য-আলোচনাও করিতাম। সে আলোচনায় বালক বন্ধুকে অর্বাচীন বলিয়া মনে করিতে পারিতাম না। যদিও বাংলা বই সে আমার চেয়ে অনেক কম পড়িয়ছিল, কিন্তু চিন্তাশক্তিতে সেই কমিটুকু সে অনায়াসেই পোষাইয়া লইতে পারিত । আমাদের অন্যাস্য আলোচনার মধ্যে বাংলা শব্দতত্ত্বের একটা আলোচনা ছিল । তাহার উৎপত্তির কারণটা এই। ডাক্তার স্কটের একটি কন্যা আমার কাছে বাংলা শিখিবার জন্য উৎসাহ প্রকাশ করিয়াছিলেন । র্তাহাকে বাংলা বর্ণমালা শিখাইবার সময় গবর্ব করিয়া বলিয়াছিলাম যে আমাদের ভাষায় বানানের মধ্যে একটা ধৰ্ম্মজ্ঞান আছে—পদে পদে নিয়ম লঙ্ঘন করাই তাহার নিয়ম নহে । তাহাকে জানাইয়াছিলাম ইরেজি বানানরীতির অসংযম নিতান্তই হাস্যকর, কেবল তাহা মুখস্থ করিয়া আমাদিগকে পরীক্ষা দিতে হয় বলিয়াই সেটা এমন শোকাবহ । কিন্তু আমার গবর্ব টিকিল না। দেখিলাম বাংলা বানানও বাধন মানে না ; তাহ যে ক্ষণে ক্ষণে নিয়ম ডিঙাইয় চলে অভ্যাসবশত এতদিন তাহা লক্ষ্য করি নাই। তখন এই নিয়মব্যতিক্রমের একটা নিয়ম খুজিতে প্রবৃত্ত হইলাম। য়ুনিভার্সিটি কলেজের লাইব্রেরিতে বসিয়৷ এই কাজ করিতাম। লোকেন এই বিষয়ে আমাকে যে সাহায্য করিত তাহাতে আমার বিস্ময় বোধ হইত । তাহার পর কয়েক বৎসর পরে সিভিল সার্ভিসে প্রবেশ করিয়া লোকেন যখন ভারতবর্ষে ফিরিল তখন, সেই কলেজের লাইব্রেরিঘরে হাস্তোচ্ছাসতরঙ্গিত যে আলোচনা সুরু হইয়াছিল তাহা ক্রমশ প্রশস্ত হইয়া প্রবাহিত হইতে লাগিল । সাহিত্যে লোকেনের প্রবল আনন্দ আমার রচনার বেগকে পালের