পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভগ্নহৃদয় । めミ為 ততক্ষণ কিছুই নাই যতক্ষণ পর্য্যন্ত দাতগুলা বাহির হইয়া বাহিরের খাদ্যপদার্থকে অন্তরস্থ করিবার সহায়ত না করে । মনের আবেগগুলারও সেই দশা । যতক্ষণ পর্য্যন্ত বাহিরের সঙ্গে তাহারা আপন সত্যসম্বন্ধ স্থাপন না করে ততক্ষণ তাহার ব্যাধির মত মনকে পীড় দেয় । তখনকার অভিজ্ঞত হইতে যে শিক্ষাট লাভ করিয়াছি সেটা সকল নীতিশাস্ত্রেই লেখে—কিস্তু তাই বলিয়াই সেট অবজ্ঞার যোগ্য নহে । আমাদের প্রবৃত্তিগুলাকে যাহা-কিছুই নিজের মধ্যে ঠেলিয় রাখে, সম্পূর্ণ বাহির হইতে দেয় না, তাহাই জীবনকে বিষাক্ত করিয়| তোলে। স্বার্থ আমাদের প্রবৃত্তিগুলিকে শেষ পরিণাম পৰ্য্যন্ত যাইতে দেয় ন—তাহাকে পূরাপুরি ছাড়িয়া দিতে চায় ন—এইজন্য সকল প্রকার আঘাত আতিশয্য অসত্য স্বার্থসাধনের সাথের সার্থী। মঙ্গলকৰ্ম্মে যখন তাহার একেবারে মুক্তিলাভ করে তখনি তাহাদের বিকার ঘুচিয়া যায়—তখনি তাহারা স্বাভাবিক হইয় উঠে। আমাদের প্রবৃত্তির সত্য পরিণাম সেইখানে—আনন্দের ও পথ সেই দিকে । নিজের মনের এই যে অপরিণতির কথা বলিলাম ইহার সঙ্গে তখনকার কালের শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত যোগ দিয়াছিল। সেই কালটার বেগ এখনই যে চলিয়া গিয়াছে তাহাও নিশ্চয় বলিতে পারি না । যে সময়টার কথা বলিতেছি তখনকার দিকে তাকাইলে মনে পড়ে ইংরেজি সাহিত্য হইতে আমরা যে পরিমাণে মাদক পাইয়াছি সে পরিমাণে খাদ্য পাই নাই । তখনকার দিনে আমাদের সাহিতদেবতা ছিলেন শেকসপিয়র, মিণ্টন ও বায়রন । ইহাদের লেখার ভিতরকার যে জিনিষটা আমাদিগকে খুব করিয়া নাড়া দিয়াছে সেটা হৃদয়বেগের প্রবলত। এই হৃদয়াবেগের প্রবলতাটা ইংরেজের লোকব্যবহারে চাপ থাকে কিন্তু তাহার সাহিত্যে ইহার আধিপত্য যেন সেই পরিমাণেই বেশি । হৃদয়াবেগকে একান্ত আতিশয্যে লইয়। গিয়া তাহাকে একটা বিষম অগ্নিকাণ্ডে শেষ করা এই সাহিত্যের একটা বিশেষ স্বভাব। অন্তত সেই দুৰ্দ্দাম উদ্দীপনাকেই আমরা ইংরেজি সাহিত্যের সার বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিলাম। আমাদের বাল্যবয়সের সাহিত্য-দীক্ষাদাত অক্ষয় চৌধুরী X %