পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


2 Φ& জীবন-স্মৃতি । সাহিত্যগুলি তামাদের শিক্ষার অঙ্গ নহে, এইজন্যই সাহিত্যরচনার রীতি ও লক্ষ্যটি এখনো আমরা ভাল করিয়া ধরিতে পারিয়াছি বলিয়া মনে হয় না । তখনকার কালের ইংরেজিসাহিত্যশিক্ষার তীব্র উত্তেজনাকে যিনি আমাদের কাছে মূৰ্ত্তিমান করিয়া তুলিয়াছিলেন তিনি হৃদয়েরই উপাসক ছিলেন। সত্যকে যে সমগ্রভাবে উপলব্ধি করিতে হইবে তহ; নহে, তাহাকে হৃদয় দিয়া অনুভব করিলেই যেন তাহার সার্থকত হইল এইরূপ তাহার মনের ভাব ছিল। জ্ঞানের দিক দিয়া ধৰ্ম্মে তাহার কোনো আস্থাই ছিল না, অথচ শুমাবিষয়ক গান করিতে র্তাহার দুই চক্ষু দিয়া জল পড়িত। এ স্থলে কোনো সত্য বস্তু র্তাহার পক্ষে তাবিশ্বক ছিল না, যে-কোনে কল্পনায় হদয়াবেগকে উত্তেজিত করিতে পারে তাহাকেই তিনি সত্যের মত ব্যবহার করিতে চাহিতেন । সত্যউপলব্ধির প্রয়োজন অপেক্ষ হৃদয়ানুভূতির প্রয়োজন প্রবল হওয়াতেই যাহাতে সেই প্রয়োজন মেটে তাহা স্থূল হইলেও তাহাকে গ্রহণ করিতে তাহার বাধা ছিল না । তখনকার কালের যুরোপীয় সাহিত্যে নাস্তিকতার প্রভাবই প্রবল । তখন বেস্থাম, মিল ও কোতের আধিপত্য। তাঙ্গদেরই যুক্তি লইয়। আমাদের যুবকের তখন তর্ক করিতেছিলেন । যুরোপে এই মিলের যুগ ইতিহাসের একটি স্বাভাবিক পৰ্য্যায়। মানুষের চিত্তের আবর্তন দূর করিয়া দিবার জন্য স্বভাবের চেষ্টারূপেই এই ভাঙিবার ও সরাইবার প্রলয়শক্তি কিছু দিনের জন্য উদ্যত হইয়া উঠিয়ছিল। কিন্তু আমাদের দেশে ইহা অামাদের পড়িয়া-পাওয়া জিনিষ । ইহাকে তামের সত্যরূপে খাটাইবার জন্য ব্যবহার করি নাই । ইহাকে তামরা শুদ্ধমাত্র একটা মানসিক বিদ্রোহের উত্তেজনারূপেই ব্যবহার করিয়াছি। নাস্তিকত আমাদের একটা নেশা ছিল । এইজন্য তখন আমরা দুই দল মানুষ দেখিয়াছি । একদল ঈশ্বরের অস্তিত্ববিশ্বাসকে যুক্তি-অস্ত্রে ছিন্নভিন্ন করিবার জন্য সৰ্ব্বদাই গায়ে পড়িয়া তর্ক করিতেন । পার্থীশিকারে শিকারীর যেমন আমোদ, গাছের উপরে বা তলায় একটা সজীব প্রাণী দেখিলেই তখনই তাহাকে নিকাশ করিয়া ফেলিবার জন্য শিকারীর