পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>Nひ8 জীবন-স্মৃতি । যেমন ধৰ্ম্মসম্বন্ধে তেমনি নিজের হৃদয়াবেগসম্বন্ধেও কোনো সত্য থাকিবার কোনো প্রয়োজন ছিল না, উত্তেজনা থাকিলেই যথেষ্ট । তখনকার কবির একটি শ্লোক মনে পড়ে — আমার হৃদয় অমারি হৃদয় বেচিনি ত তাহা কাহারো কাছে, ভাঙাচোরা হোক, যা হোক তাহোক আমার হৃদয় অমারি অাছে । সত্যের দিক দিয়া হৃদয়ের কোনো বালাই নাই, তাহার পক্ষে ভাঙিয়া যাওয়া বা অন্য কোনো প্রকার দুর্ঘটনা নিতান্তই অনাবশ্যক —দুঃখবৈরাগ্যের সত্যট স্পাহনীয় নয়, কিন্তু শুদ্ধমাত্র তাহার কাকটকু উপভোগের সামগ্ৰী,—এইজন্য কাব্যে সেই জিনিষটার কারবার জমি য় উঠিয়াছিল—ইহাই দেবতাকে বাদ দিয়া দেবোপাসনার রসটুকু ছাকিয় লওয়া। আজও আমাদের দেশে এ বালাই ঘুচে নাই। সেইজন্যই আজও আমরা ধৰ্ম্মকে যেখানে সত্যে প্রতিষ্ঠিত করিতে না পারি সেখানে ভাবুকত দিয়া আর্টের শ্রেণীভুক্ত করিয়া তাহার সমর্থন করি । সেইজন্যই বহুল পরিমাণে আমাদের দেশহিতৈষিত দেশের যথার্থ সেবা নহে, কিন্তু দেশসম্বন্ধে হৃদয়ের মধ্যে একটা ভাব অমুভব করার আয়োজন করা | বিলাতী সঙ্গীত । ব্রাইটনে থাকিতে সেখানকার সঙ্গীতশালায় একবার একজন বিখ্যাত গায়িকার গান শুনিতে গিয়াছিলাম। র্তাহার নামটা ভুলিতেছি —মাডাম নীলসন অথবা মাডাম আলবানী হইবেন । কণ্ঠস্বরের এমন আশ্চৰ্য্যশক্তি পূর্বে কখনো দেখি নাই। আমাদের দেশে বড় বড় ওস্তাদ গায়কেরাও গান গাহিবার প্রয়াসটাকে ঢাকিতে পারেন না—যে সকল খাদস্বর বা চড়াস্থর সহজে তাহদের গলায় আসেন, যেমন তেমন করিয়া সেটাকে প্রকাশ করিতে র্তাহাদের কোনো লজ্জা নাই । কারণ আমাদের দেশে,