পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাল্মীকি-প্রতিভা । S8) খুসি হইয়। ঘরে ফিরিয়াছেন। বাল্মীকি-প্রতিভায় অক্ষয়বাবুর কয়েকটি গান আছে এবং ইহার দুইটি গানে বিহারী চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয়ের সারদামঙ্গল সঙ্গীতের দুই একস্থানের ভাষা ব্যবহার করা হইয়াছে । এই দুটি গীতিনাট্যের অভিনয়ে আমিই প্রধান পদ গ্রহণ করিয়াছিলাম। বাল্যকাল হইতেই আমার মনের মধ্যে নাট্যাভিনয়ের সর্থ ছিল । আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল একাৰ্য্যে আমার স্বাভাবিক নিপুণত আছে। আমার এই বিশ্বাস অমূলক ছিল না তাহার প্রমাণ হইয়াছে। নাট্যমঞ্চে সাধারণের সমক্ষে প্রকাশ হইবার পূর্বে জ্যোতিদাদার “এমন কৰ্ম্ম আর করবনা” প্রহসনে আমি অলীকবাবু সাজিয়াছিলাম। সেই আমার প্রথম অভিনয় । তখন আমার অল্পবয়স, গান গাহিতে আমার কণ্ঠের ক্লান্তি বা বাধামাত্র ছিল না ;— তখন বাড়িতে দিনের পর দিন, প্রহরের পর প্রহর সঙ্গীতের অবিরলবিগলিত ঝরন ঝরিয়া তাহার শীকরবর্মণে মনের মধ্যে স্বরের রামধনুকের রং ছড়াইয় দিতেছে ; তখন নবযৌবনে নবনব উদ্যম নূতন নূতন কৌতুহলের পথ ধরিয়৷ ধাবিত হইতেছে ; তখন সকল জিনিষই পরীক্ষা করিয়া দেখিতে চাই, কিছু যে পারিব না এমন মনেই হয় না ; তখন লিখিতেছি, গাহিতেছি, অভিনয় করিতেছি, নিজেকে সকল দিকেই প্রচুরভাবে ঢালিয়া দিতেছি—আমার সেই কুড়িবছরের বয়সটাতে এমনি করিয়াই পদক্ষেপ করিয়াছি। সেদিন এই যে আমার সমস্ত শক্তিকে এমন দুৰ্দ্দাম উৎসাহে দৌড় করাইয়াছিলেন তাহার সারথী ছিলেন জ্যোতিদাদা । তাহার কোনো ভয় ছিল না । যখন নিতান্তই বালক ছিলাম তখন তিনি আমাকে ঘোড়ায় চড়াইয় তাহার সঙ্গে ছুট করাইয়াছেন, আনাড়ি সওয়ার পড়িয়া যাইব বলিয়া কিছুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাই। সেই আমার বাল্যবয়সে একদিন শিলাইদহে যখন খবর আসিল যে গ্রামের বনে একটা বাঘ আসিয়াছে—তখন আমাকে তিনি শিকারে লইয়া গেলেন,—হাতে আমার অস্ত্র নাই, থাকিলেও তাহাতে বাঘের চেয়ে আমারই বিপদের ভয় বেশি ; বনের বাহিরে জুতা খুলিয়া একটা বঁাশ গাছের আধকাটা কঞ্চির উপর চড়িয়া জ্যোতিদাদার পিছনে কোনোমতে