পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>8ぐ。 জীবন-স্মৃতি । তিনি খুসি হইয়াছেন। নিশ্চয়ই তিনি মনে করিয়াছিলেন ফিরিয়া আসাই আমার পক্ষে মঙ্গলকর হইয়াছে এবং এই মঙ্গল ঈশ্বর-আশীর্ববাদেই ঘটিয়াছে। দ্বিতীয় বার বিলাতে যাইবার পূর্বদিন সায়াহ্নে বেথুনসোসাইটির আমন্ত্রণে মেডিকাল কলেজ হলে আমি প্রবন্ধ পাঠ করিয়াছিলাম। সভাস্থলে এই আমার প্রথম প্রবন্ধ পড় । সভাপতি ছিলেন বৃদ্ধ রেভারেণ্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবন্ধের বিষয় ছিল সঙ্গীত। যন্ত্রসঙ্গীতের কথা ছাড়িয়া দিয়া আমি গেয় সঙ্গীত সম্বন্ধে ইহাই বুঝাইবার চেষ্টা করিয়াছিলাম যে, গানের কথাকেই গানের সুরের দ্বারা পরিস্ফুট করিয়া তোলা এই শ্রেণীর সঙ্গীতের মুখ্য উদেশ্ব। আমার প্রবন্ধে লিখিত অংশ অল্পই ছিল। আমি দৃষ্টান্ত দ্বার বক্তবাটিকে সমর্থনের চেষ্টায় প্রায় আগাগোড়াই নানাপ্রকার সুর দিয়া নানাভাবের গান গাহিয়াছিলাম । সভাপতি মহাশয় “বন্দে বাল্মীকি-কোকিলং” বলিয়৷ তামার প্রতি যে প্রচুর সাধুবাদ প্রয়োগ করিয়াছিলেন আমি তাহার প্রধান কারণ এই বুঝি যে, আমার বয়স তখন অল্প ছিল এবং বালককণ্ঠে নানা বিচিত্র গান শুনিয় তাহার মন তাদ্রে হইয়াছিল। কিন্তু যে মতটিকে তখন এত স্পৰ্দ্ধার সঙ্গে ব্যক্ত করিয়াছিলাম সে মতটি যে সত্য নয় সে কথা তাজ স্বীকার করিব । গীতিকলার নিজেরই একটি বিশেয প্রকৃতি ও বিশেষ কাজ আছে । গানে যখন কথা থাকে তখন কথার উচিত হয় না সেই সুযোগে গানকে ছাড়াইয়। যাওয়া, সেখানে সে গানেরই বাহনমাত্র । গান নিজের ঐশ্বৰ্য্যেই বড়— বাক্যের দাসত্ব সে কেন করিতে যাইবে ? বাক্য যেখানে শেষ হইয়াছে সেইখানেই গানের আরস্ত । যেখানে অনিৰ্ব্বচনীয় সেইখানেই গানের প্রভাব । বাক্য যাহা বলিতে পারে না গান তাহাই বলে । এইজন্য গানের কথাগুলিতে কথার উপদ্রব যতই কম থাকে ততই ভাল। হিন্দুস্থানী গানের কথা সাধারণত এতই অকিঞ্চিৎকর যে তাহাদিগকে অতিক্রম করিয়া সুর আপনার আবেদন অনায়াসে প্রচার করিতে পারে। এইরূপে রাগিণী যেখানে শুদ্ধমাত্র স্বররূপেই আমাদের চিত্তকে অপরূপ ভাবে জাগ্রত করিতে পারে সেইখানেই সঙ্গীতের উৎকর্ষ । কিন্তু বাংলাদেশে বহুকাল হইতে কথারই