পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


)8b" জীবন-স্মৃতি । আকাশে কান পাতিয়া তাহার কণ্ঠস্বর কখনো বা শুনিয়াছি । সেই বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডের বিশ্ববিমোহিনী বিদেশিনীর দ্বারে আমার গানের সুর আমাকে আনিয়া উপস্থিত করিল এবং আমি কহিলাম— ভুবন ভ্ৰমিয়া শেষে এসেছি তোমারি দেশে, আমি অতিথি তোমারি দ্বারে, ওগো বিদেশিনী ! ইহার অনেক দিন পরে একদিন বোলপুরের রাস্তা দিয়া কে গাহিয়া যাইতেছিল— “খাচার মাঝে অচিন পাখী কমনে আসে যায় ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতেম পার্থীর পায় ।” দেখিলাম বাউলের গানও ঠিক ঐ একই কথা বলিতেছে । মাঝে মাঝে বন্ধ খাচার মধ্যে আসিয়া অচিন পার্থী বন্ধনহীন অচেনার কথা বলিয়া যায়—মন তাহাকে চিরন্তন করিয়া ধরিয়া রাখিতে চায় কিন্তু পারে না । এই অচিন পার্থীর নিঃশব্দ যাওয়াআসার খবর গানের সুর ছাড়া আর কে দিতে পারে! এই কারণে চিরকাল গানের বই ছাপাষ্টতে সঙ্কোচ বোধ করি । কেননা গানের বহিতে আসল জিনিষই বাদ পড়িয়া যায়। সঙ্গীত বাদ দিয়া সঙ্গীতের বাহনগুলিকে সাজাইয়। রাখিলে কেমন হয় যেমন গণপতিকে বাদ দিয়া তাহার মুষিকটাকে ধরিয়া রাখা । গঙ্গাতীর । বিলাতযাত্রার আরস্তু পথ হইতে যখন ফিরিয়া আসিলাম তখন জ্যোতিদাদা চন্দননগরে গঙ্গাধারের বাগানে বাস করিতেছিলেন—আমি তাহদের আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। তাবার সেই গঙ্গা ! সেই আলস্তে আনন্দে অনির্বাচনীয়, বিষাদে ও ব্যাকুলতায় জড়িত, স্নিগ্ধ শ্যামল নদীতীরের সেই কলধ্বনিকরুণ দিনরাত্ৰি ! এইখানেই আমার স্থান, এইখানেই আমার মাতৃহস্তের