পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У Ф. о জীবন-স্মৃতি । ছিল । গঙ্গা হইতে উঠিয়া ঘাটের সোপানগুলি পাথরে বাধানো একটি প্রশস্ত সুদীর্ঘ বারান্দায় গিয়া পোছিত । সেই বারান্দাটাই বাড়ির বারান্দা । ঘরগুলি সমতল নহে—কোনো ঘর উচ্চ তলে, কোনো ঘরে দুই চারি ধাপ সিডি বাহিয়া নামিয়া যাইতে হয়। সবগুলি ঘর যে সমরেখায় তাহাও নহে। ঘাটের উপরেই বৈঠকখানাঘরের সাসিগুলিতে রঙীন ছবিওয়ালা কাচ বসানো ছিল । একটি ছবি ছিল, নিবিড় পল্লবে বেষ্টিত গাছের শাখায় একটি দোলা—সেই দোলায় রৌদ্রছায়াখচিত নিভৃত নিকুঞ্জে দুজনে দুলিতেছে ; তার একটি ছবি ছিল, কোনো দুর্গপ্রাসাদের সিড়ি বাহিয়া উৎসববেশে সজ্জিত নরনারী কেহ বা উঠিতেছে কেহ বা নামিতেছে। সাসির উপরে তালে পড়িত এবং এই ছবিগুলি বড় উজ্জ্বল হইয় দেখা দিত। এই দুটি ছবি সেই গঙ্গাতীরের আকাশকে যেন ছুটির স্তরে ভরিয়া তুলিত । কোন দূর দেশের কোন দূরকালের উৎসব আপনার শব্দষ্টান কথাকে আলোর মধ্যে ঝলমল করিয়া মেলিয় দিত— এবং কোথাকার কোন একটি চিরনিভৃত ছায়ায় যুগলদোলনের রসমাধুর্য নদীর্তারের বনশ্রেণীর মধ্যে একটি অপরিস্ফুট গল্পের বেদন সঞ্চার করিয় দিত। বাড়ির সর্বোচ্চতলে চারিদিক-গোল একটি গোল ঘর ছিল । সেইখানে আমার কবিতা লিখিবর জায়গা করিয়া লইয়াছিলাম । সেখানে বসিলে ঘন গাছের মাথাগুলি ও খোলা তাক শ ছাড়া আর কিছু চোখে পড়িত না । তখনে সন্ধ্যাসঙ্গীতের পাল চলিতেছে—এই ঘরের প্রতি লক্ষ্য করিয়াই লিখিয়ছিলাম— অনন্ত এ তাকাশের কোলে টলমল মেঘের মাঝার— এইখানে বাধিয়াছি ঘর তোর তরে কবিতা আমার । এখন হইতে কাব্যসমালোচকদের মধ্যে আমার সম্বন্ধে এই একটা রব উঠিতেছিল যে, আমি ভাঙাভাঙা ছন্দ ও অধিআধ ভাষার কবি । সমস্তই আমার ধোয়া-ধোয় ছায়া-ছায়া । কথাটা তখন আমার পক্ষে যতই অপ্রিয়