পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গঙ্গাতীর । X © Ꮌ হউক না কেন, তাহ অমূলক নহে। বস্তুতই সেই কবিতাগুলির মধ্যে বাস্তব ংসারের দৃঢ়ত্ব কিছুই ছিল না । ছেলেবেলা হইতেই বাহিরের লোকসংস্রব হইতে বহুদূরে যেমন করিয়া গণ্ডিবদ্ধ হইয়া মানুষ হইয়াছিলাম তাহাতে লিখিবার সম্বল পাইব কোথায় ? কিন্তু একটা কথা আমি মানিতে পারি না । র্তাহারা আমার কবিতাকে যখন ঝাপস বলিতেন তখন সেই সঙ্গে এই খোচাটুকুও ব্যক্ত বা অব্যক্ত ভাবে যোগ করিয়া দিতেন—ওট যেন একট। ফ্যাশান। যাহার নিজের দৃষ্টি খুব ভাল সে ব্যক্তি কোনো যুবককে চশমা পরিতে দেখিলে অনেক সময়ে রাগ করে এবং মনে করে ও বুঝি চশমাটাকে অলঙ্কাররূপে ব্যবহার করিতেছে । বেচার চোথে কম দেখে এ অপবাদটা স্বীকার করা যাইতে পারে কিন্তু কম দেখার ভান করে এটা কিছু বেশি হইয় পড়ে । যেমন নীহারিকাকে স্বষ্টিছাড় বল চলে না কারণ তাহ সৃষ্টির একটা সবিশেষ অবস্থার সত্য—তেমনি কাব্যের অক্ষুটতাকে ফাকি বলিয়। উড়াইয়৷ দিলে কাব্যসাহিত্যের একটা সত্যেরই অপলাপ করা হয় । মানুষের মধ্যে অবস্থাবিশেষে একটা আবেগ আসে যাহ অব্যক্তের বেদন, যাহা অপরিস্ফুটতার বাকুলত । মনুষ্যপ্রকৃতিতে তাহা সত্য সুতরাং তাহার প্রকাশকে মিথা বলিব কি করিয় ! এরূপ কবিতার মূল নাই বলিলে ঠিক বলা হয় না, তবে কি না মূল্য নাই বলিয়। তর্ক করা চলিতে পারে। কিন্তু একেবারে নাই বলিলে কি অত্যুক্তি হইবে না ? কেননা কাব্যের ভিতর দিয়া মানুষ আপনার সদয়কে ভাষায় প্রকাশ করিতে চেষ্টা করে ; সেই হৃদয়ের কোনো অবস্থার কোনো পরিচয় যদি কোনো লেখায় ব্যক্ত হয় তবে মানুষ তাহাকে কুড়াইয়া রাখিয় দেয়—ব্যক্ত যদি না হয় তবেই তাহাকে ফেলিয়া দিয়া থাকে। অতএব হৃদয়ের অব্যক্ত আকৃতিকে ব্যক্ত করায় পাপ নাই—যত অপরাধ ব্যক্ত না করিতে পারার দিকে। মানুষের মধ্যে একটা দ্বৈত আছে । বাহিরের ঘটনা, বাহিরের জীবনের সমস্ত চিন্তা ও আবেগের গভীর অন্তরালে যে মানুষটা বসিয়া আছে, তাহাকে ভাল করিয়া চিনিনা ও ভুলিয়া থাকি, কিন্তু জীবনের মধ্যে তাহার সত্তাকে ত লোপ করিতে পারি না । বাহিরের