পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৫8 डीीवन-श्रृंड़ि । তাহাদিগকে কেহ লক্ষ্যও করে না, অবকাশের দিনে সেইগুলাকে ধরিয়া রাখিবার খেয়াল আসিয়াছিল। আসল কথা, তখন সেই একটা বেঁশকের মুখে চলিয়াছিলাম—মন বুক ফুলাইয়া বলিতেছিল, আমার যাহা ইচ্ছা তাহাই লিখিব—কি লিখিব সে খেয়াল ছিলনা কিন্তু আমিই লিখিব এইমাত্র তাহার একটা উত্তেজনা । এই ছোট ছোট গদ্য লেখাগুলা এক সময়ে বিবিধ প্রসঙ্গ নামে গ্রন্থ আকারে বাহির হইয়াছে—প্রথম সংস্করণের শেষেই তাহাদিগকে সমাধি দেওয়া হইয়াছে, দ্বিতীয় সংস্করণে আর তাহাদিগকে নূতন জীবনের পাটা দেওয়া হয় নাই । বোধ করি এই সময়েই বৌঠাকুরাণীর হাট নামে এক বড় নবেল লিখিতে সুরু করিয়াছিলাম। এইরূপে গঙ্গাতীরে কিছুকাল কাটিয়া গেলে জ্যোতিদাদা কিছুদিনের জন্য চৌরঙ্গি জাদুঘরের নিকট দশ নম্বর সদর প্রীটে বাস করিতেন । আমি তাহার সঙ্গে ছিলাম। এখানেও একটু একটু করিয়া বৌঠাকুরাণীর হাট ও একটি একটি করিয়া সন্ধ্যা-সঙ্গীত লিখিতেছি এমন সময়ে আমার মধ্যে হঠাৎ একটা কি উলট পালট হইয়া গেল। একদিন জোড়াসাকোর বাড়ির ছাদের উপর অপরাহের শেষে বেড়াইতেছিলাম। দিবাবসানের মানিমার উপরে সূৰ্য্যাস্তের আভাটি জড়িত হইয় সেদিনকার আসন্ন সন্ধ্য আমার কাছে বিশেষভাবে মনোহর হইয়া প্রকাশ পাইয়াছিল। পাশের বাড়ির দেয়ালগুলা পৰ্য্যন্ত আমার কাছে সুন্দর হইয়া উঠিল। আমি মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম, পরিচিত জগতের উপর হইতে এই যে তুচ্ছতার আবরণ একেবারে উঠিয়া গেল একি কেবলমাত্রসায়াহ্নের আলোকসম্পাতের একটা জাদুমাত্র ? কখনই তাহ নয় । আমি বেশ দেখিতে পাইলাম ইহার আসল কারণটি এই যে, সন্ধ্যা আমারই মধ্যে আসিয়াছে— আমিই ঢাকা পড়িয়াছি । দিনের আলোতে আমিই যখন অত্যন্ত উগ্র হইয়া ছিলাম তখন যাহা-কিছুকেই দেখিতে-শুনিতেছিলাম সমস্তকে আমিই জড়িত করিয়া আবৃত করিয়াছি । এখন সেই আমি সরিয়া আসিয়াছে বলিয়াই