পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রভাত-সঙ্গীত । Y 6 & জগৎকে তাহার নিজের স্বরূপে দেখিতেছি। সে স্বরূপ কখনই তুচ্ছ নহে— তাহা আনন্দময় স্থন্দর। তাহার পর আমি মাঝে মাঝে ইচ্ছাপূর্বক নিজেকে যেন সরাইয় ফেলিয়া জগৎকে দর্শকের মত দেখিতে চেষ্টা করিতাম, তখন মনটা খুসি হইয় উঠিত । আমার মনে আছে, জগৎটাকে কেমন করিয়৷ দেখিলে যে ঠিকমত দেখা যায় এবং সেই সঙ্গে নিজের ভার লাঘব হয় সেই কথা একদিন বাড়ির কোনো অাষ্ট্রীয়কে বুঝাইবার চেষ্টা করিয়াছিলাম— কিছুমাত্র কৃতকাৰ্য্য হই নাই তাঙ্গ জানি । এমন সময়ে আমার জীবনের একটা অভিজ্ঞত লাভ করিলাম তাহ তাজ পৰ্য্যন্ত ভুলিতে পারি নাই । সদরীটের রাস্তাটা যেখানে গিয়া শেষ হইয়াছে সেইখানে বোধ করি ফ্রী-স্কুলের বাগানের গাছ দেখা যায়। একদিন সকালে বারান্দায় দাড়াইয় আমি সেইদিকে চাহিলাম। তখন সেই গাছগুলির পল্লবাস্তরাল হইতে সূর্বোদয় হইতেছিল । চাহিয়া থাকিতে থাকিতে হঠাৎ এক মুহূর্বের মধ্যে আমার চোখের উপর হইতে যেন একটা পর্দা সরিয়া গেল । দেখিলাম একটি অপরূপ মহিমায় বিশ্বসংসার সমাচ্ছন্ন, আনন্দে এবং সৌন্দর্য্যে সর্বত্রই তরঙ্গিত । আমার হৃদয়ে স্তরে স্তরে যে একট বিষাদের আচ্ছাদন ছিল তাহা এক নিমিষেই ভেদ করিয়া আমার সমস্ত ভিতরটাতে বিশ্বের আলোক একেবারে বিচ্ছুরিত হইয় পড়িল। সেইদিনই নির্বারের স্বপ্নভঙ্গ কবিতাটি নিঝরের মতই যেন উৎসারিত হইয়া বহিয়া চলিল। লেখা শেষ হইয় গেল কিন্তু জগতের সেই আনন্দরূপের উপর তখনে যবনিক পড়িয়া গেল না । এমনি হইল আমার কাছে তখন কেহই এবং কিছুই অপ্রিয় রহিল না। সেইদিনই কিম্বা তাহার পরের দিন একটা ঘটনা ঘটিল তাহাতে আমি নিজেই আশ্চৰ্য্য বোধ করিলাম। একটি লোক ছিল সে মাঝে মাঝে আমাকে এই প্রকারের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিত, আচ্ছ মশায় আপনি কি ঈশ্বরকে কখনো স্বচক্ষে দেখিয়াছেন ? আমাকে স্বীকার করিতেই হইত দেখি নাই—-তখন সে বলিত আমি দেখিয়াছি। যদি জিজ্ঞাসা করিতাম, কিরূপ দেখিয়াছ ? সে উত্তর করিত চোখের সম্মুখে বিজ, বিজ করিতে থাকেন। এরূপ মানুষের