পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


{\e জীযঙ্গ-শ্ৰুতি । সঙ্গে তত্ত্বালোচনায় কালযাপন সকল সময়ে প্রীতিকর হইতে পারে না । বিশেষতঃ তখন আমি প্রায় লেখার ঝেণকে থাকিতাম । কিন্তু লোকটা ভালমানুষ ছিল বলিয়া তাহাকে বাধা দিতে পারিতাম না, সমস্ত সহিয়া যাইতাম । এইবার, মধ্যাহ্নকালে সেই লোকটি যখন আসিল তখন আমি সম্পূর্ণ আনন্দিত হইয় তাহাকে বলিলাম, এস, এস। সে যে নিবোধ এবং অদ্ভুত রকমের ব্যক্তি, তাহার সেই বহিরাবরণটি যেন খুলিয়া গেছে। আমি যাহাকে দেখিয়া খুসি হইলাম এবং অভ্যর্থনা করিয়া লইলাম—সে তাহার ভিতরকার লোক—আমার সঙ্গে তাহার অনৈক্য নাই, আত্নীয়তা আছে। যখন তাহাকে দেখিয়া আমার কোনো পীড়া বোধ হইল না মনে হইল না যে, আমার সময় নষ্ট হইবে—তখন আমার ভারি আনন্দ হইল—বোধ হইল এই আমার মিথ্যা জাল কাটিয়া গেল, এতদিন এই সম্বন্ধে নিজেকে বারবার যে কষ্ট দিয়াছি, তাহা অলীক এবং অনাবশুক । আমি বারান্দায় দাড়াইয়া থাকিতাম, রাস্ত দিয়া মুটে মজুর যে কেহ চলিত তাহদের গতিভঙ্গী, শরীরের গঠন, তাহদের মুখশ্রী আমার কাছে ভারি আশ্চৰ্য্য বলিয়া বোধ হইত ; সকলেই যেন নিখিলসমুদ্রের উপর দিয়৷ তরঙ্গলীলার মত বহিয়া চলিয়াছে । শিশুকাল হইতে কেবল চোখ দিয়া দেখাই অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছিল, আজ যেন একেবারে সমস্ত চৈতন্য দিয়া দেখিতে আরম্ভ করিলাম। রাস্ত দিয়া এক যুবক যখন আরেক যুবকের কাধে হাত দিয়া হাসিতে হাসিতে অবলীলাক্রমে চলিয়া যাইত সেটাকে আমি সামান্ত ঘটনা বলিয়া মনে করিতে পারিতাম না—বিশ্বজগতে তাতলস্পশ গভীরতার মধ্যে যে অফুরান রসের উৎস চারিদিকে হাসির ঝরণা ঝরাইতেছে সেইটাকে যেন দেখিতে পাইতাম । সামান্য কিছু কাজ করিবার সময়ে মানুষের অঙ্গে প্রত্যঙ্গে যে গতিবৈচিত্র্য প্রকাশিত হয় তাহ আগে কখনো লক্ষ্য করিয়া দেখি নাই—এখন মুহূৰ্ত্তে মুহূৰ্বে সমস্ত মানবদেহের চলনের সঙ্গীত আমাকে মুগ্ধ করিল । এ সমস্তকে