পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজেন্দ্রলাল মিত্র । > ど)○ সেই রুদ্ধদ্বার জানিন কোন ধাক্কায় হঠাৎ ভাঙিয়া গেল, তখন, যাহাকে হারাইয়াছিলাম, তাহাকে পাইলাম। শুধু পাইলাম তাহ নহে, বিচ্ছেদের ব্যবধানের ভিতর দিয়া তাহার পূর্ণতর পরিচয় পাইলাম। সহজকে দুরূহ করিয়া তুলিয়। যখন পাওয়া যায় তখনি পাওয়া সার্থক হয়। এইজন্য আমার শিশুকালের বিশ্বকে প্রভাত-সঙ্গীতে যখন তাবার পাইলাম তখন তাহাকে অনেক বেশি পাওয়া গেল। এমনি করিয়া প্রকৃতির সঙ্গে সহজ মিলন, বিচ্ছেদ ও পুনৰ্ম্মিলনে জীবনের প্রথম অধ্যায়ের একটা পাল৷ শেষ হইয়া গেল । শেষ হইয় গেল বলিলে মিথ্যা বলা হয় । এই পালাটাই আবার আরো একটু বিচিত্র হইয়। সুরু হইয়া আবার আরো একটা দুরূহতর সমস্যার ভিতর দিয়া বৃহত্তর পরিণামে পৌঁছিতে চলিল । বিশেষ মানুষ জীবনে বিশেষ একটা পালাই সম্পূর্ণ করিতে আসিয়াছে— পর্বের পর্বের্ণ তাহার চক্রট বৃহত্তর পরিধিকে অবলম্বন করিয়া বাড়িতে থাকে—প্রত্যেক পাককে হঠাৎ পৃথক বলিয়া ভ্রম হয় কিন্তু খুজিয়া দেখিলে দেখা যায় কেন্দ্রট একই । যখন সন্ধ্যা-সঙ্গীত লিখিতেছিলাম তখন খণ্ড খণ্ড গদ্য “বিবিধ প্রসঙ্গ” নামে বাহির হইতেছিল । আর প্রভাত-সঙ্গীত যখন লিখিতেছিলাম কিম্বা তাহার কিছু পর হইতে ঐরুপ গদ্য লেখাগুলি আলোচনা নামক গ্রন্থে সংগৃহীত হইয়া ছাপা হইয়াছিল। এই দুই গদ্যগ্রন্থে যে প্রভেদ ঘটিয়াছে তাহা পড়িয়া দেখিলেই লেখকের চিত্তের গতি নির্ণয় করা কঠিন হয় না । রাজেন্দ্রলাল মিত্র । এই সময়ে, বাংলার সাহিত্যিকগণকে একত্র করিয়া একটি পরিষৎ স্থাপন করিবার কল্পনা জ্যোতিদাদার মনে উদিত হইয়াছিল। বাংলার পরিভাষা বঁধিয়া দেওয়া ও সাধারণত; সপল প্রকার উপায়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পুষ্টিসাধন এই সভার উদ্দেশ্য ছিল। বৰ্ত্তমান সাহিত্য