পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কারোয়ার । S\ుసి কোথা কিছু নাহি জাগে সর্বাঙ্গে জ্যোৎস্ন লাগে সৰ্ব্বাঙ্গ পুলকে অচেতন । অসীমে সুনীলে শূন্যে বিশ্ব কোথা ভেসে গেছে, তারে যেন দেখা নাহি যায় ; নিশীথের মাঝে শুধু মহান একাকী আমি অতলেতে ডুবিরে কোথায় ! গাও বিশ্ব গাও তুমি সুদূর অদৃশ্য হতে গাও তব নাবিকের গান, শতলক্ষ যাত্ৰীলয়ে কোথায় যেতেছ তুমি তাই ভাবি মুদিয়া নয়ান । অনন্ত রজনী শুধু ডুবে যাই নিবে যাই মরে যাই অসীম মধুরে— বিন্দু হতে বিন্দু হয়ে মিলায়ে মিশায়ে যাই অনন্তের স্থদুর সুদূরে । একথা এখানে বলা অবশ্যক কোনো সদ্য আবেগে মন যখন কানায় কানায় ভরিয়া উঠে তখন যে লেখা ভাল হইতে হইবে এমন কথা নাই । তখন গদগদ বাক্যের পাল । ভাবের সঙ্গে ভাবুকের সম্পূর্ণ ব্যবধান ঘটিলেও যেমন চলে না তেমনি একেবারে অব্যবধান ঘটিলেও কাব্যরচনার পক্ষে তাহ অনুকূল হয় না। স্মরণের তুলিতেই কবিত্বের রং ফোটে ভাল। প্রত্যক্ষের একটা জবরদস্তি আছে—কিছু পরিমাণে তাহার শাসন কাটাইতে না পারিলে কল্পনা আপনার জায়গাটি পায় না। শুধু কবিত্বে নয় সকলপ্রকার কারুকলাতেও কারুকরের চিত্তের একটি নির্লিপ্ততা থাকা চাই—মানুষের অন্তরের মধ্যে যে স্থষ্টিকৰ্ত্তা আছে, কর্তৃত্ব তাহারি হাতে না থাকিলে চলে না। রচনার বিষয়টাই যদি তাহাকে ছাপাইয় কর্তৃত্ব করিতে যায় তবে তাহ প্রতিবিম্ব হয় প্রতিমূৰ্ত্তি হয় না । २२