পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৭২ জীবন-স্মৃতি । আমরা রাখাল বালক গোষ্ঠে যাব আমাদের শ্যামকে দিয়ে যাও । সকালের সূর্য উঠিয়াছে, ফুল ফুটিয়াছে, রাখাল বালকরা মাঠে যাইতেছে,— সেই সূর্য্যোদয়, সেই ফুল ফোট, সেই মাঠে বিহার তাহার শূন্য রাখিতে চায় ন,—সেইখানেই তাহারা তাহদের শ্যামের সঙ্গে মিলিত হইতে চাহিতেছে,— সেইখানেই অসীমের সাজপর রূপটি তাহারা দেখিতে চায় ;—সেইখানেই মাঠে ঘাটে বনে পৰ্ব্বতে অসীমের সঙ্গে আনন্দের খেলায় তাহারা যোগ দিবে বলিয়াই তাহারা বাহির হইয় পড়িয়াছে—দূরে নয় ঐশ্বর্যের মধ্যে নয়, তাহাদের উপকরণ অতি সামান্য—পীতধড়া ও বনফুলের মালাই তাহদের সাজের পক্ষে যথেষ্ট—কেননা, সৰ্ববত্রই যাহার আনন্দ, তাহাকে কোনো বড় জায়গায় খুজিতে গেলে, তাহার জন্য আয়োজন আড়ম্বর করিতে গেলেই লক্ষ্য হারাইয়া ফেলিতে হয় । কারোয়ার হইতে ফিরিয়া আসার কিছুকাল পরে ১২৯০ শালে ২৪ শে অগ্রহায়ণে আমার বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স ২২ বৎসর। ছবি ও গান । ছবি ও গান নাম ধরিয়া আমার যে কবিতাগুলি বাহির হইয়াছিল তাহার অধিকাংশ এই সময়কার লেখা । চৌরঙ্গির নিকটবৰ্ত্তী সাকুলিররোডের একটি বাগানবাড়িতে আমরা তখন বাস করিতাম। তাহার দক্ষিণের দিকে মস্ত একটা বস্তি ছিল । আমি অনেক সময়েই দোতলার জানলার কাছে বসিয়া সেই লোকালয়ের দৃশ্য দেখিতাম। তাহাদের সমস্ত দিনের নানাপ্রকার কাজ, বিশ্রাম, খেলা ও আনাগোনা দেখিতে আমার ভারি ভাল লাগিত, সে যেন আমার কাছে বিচিত্র গল্পের মত হইত। নানা জিনিষকে দেখিবার যে দৃষ্টি সেই দৃষ্টি যেন আমাকে পাইয়া বসিয়াছিল । তখন একটি একটি যেন স্বতন্ত্র ছবিকে কল্পনার আলোকে ও মনের