পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছবি ও গান ৷ > q○ আনন্দ দিয়া ঘিরিয়া লইয়৷ দেখিতাম। এক একটি বিশেষ দৃশ্য এক একটি বিশেষ রসে রঙে নির্দিষ্ট হইয়া আমার চোখে পড়িত। এমনি করিয়৷ নিজের মনের কল্পনাপরিবেষ্টিত ছবিগুলি গড়িয়া তুলিতে ভারি ভাল লাগিত। সে আর কিছু নয়, এক একটি পরিস্ফুট চিত্র অর্ণকিয়া তুলিবার আকাঙক্ষা । চোখ দিয়া মনের জিনিষকে ও মন দিয়া চোখের দেথাকে দেখিতে পাইবার ইচ্ছ। তুলি দিয়া ছবি অশকিতে যদি পারিতাম তবে পটের উপর রেখা ও রং দিয়া উতলা মনের দৃষ্টি ও স্বষ্টিকে বধিয়া রাখিবার চেষ্টা করিতাম কিন্তু সে উপায় আমার হাতে ছিল না। ছিল কেবল কথা ও ছন্দ। কিন্তু কথার তুলিতে তখন স্পষ্ট রেখার টান দিতে শিখি নাই, তাই কেবলি রং ছড়াইয়া পড়িত। তা হউক, তবু ছেলেরা যখন প্রথম রঙের বাক্স উপহার পায় তখন যেমন-তেমন করিয়া নানা প্রকার ছবি অ’ কিবার চেষ্টায় অস্থির হইয় ওঠে আমিও সেই দিন নবযৌবনের নানান রঙের বাক্সটা নূতন পাইয়া আপন মনে কেবলি রকম-বেরকম ছবি অশকিবার চেষ্টা করিয়া দিন কাটাইয়াছি । সেই সেদিনের বাইশ বছর বয়সের সঙ্গে এই ছবিগুলাকে আজ মিলাইয় দেখিলে হয়ত ইহাদের কাচা লাইন ও ঝাপস রঙের ভিতর দিয়াও একটা কিছু চেহারা খুজিয়া পাওয়া যাইতে পারে। পূর্বেই লিখিয়াছি প্রভাতসঙ্গীতে একটা পৰ্ব্ব শেষ হইয়াছে। ছবি ও গান হইতে পালাটা আবার আর একরকম করিয়া সুরু হইল। একটা জিনিষের আরস্তুের আয়োজনে বিস্তর বাহুল্য থাকে। কাজ যত অগ্রসর হইতে থাকে তত সে সমস্ত সরিয় পড়ে। এই নূতন পালার প্রথমের দিকে বোধ করি বিস্তর বাজে জিনিষ আছে। সেগুলি যদি গাছের পাত হইত তবে নিশ্চয় ঝরিয়া যাইত। কিন্তু বইয়ের পাতা ত অত সহজে ঝরে না, তাহার দিন ফুরাইলেও সে টিকিয়া থাকে। নিতান্ত সামান্য জিনিষকেও বিশেষ করিয়া দেখিবার একটা পালা এই “ছবি ও গান”-এ আরম্ভ হইয়াছে। গানের সুর যেমন শাদা কথাকেও গভীর করিয়া তোলে তেমনি কোনে একটা সামান্য উপলক্ষ্য লইয়৷ সেইটেকে হৃদয়ের রসে রসাইয় তাহার তুচ্ছত৷