পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বালক । Y ጫ(: আলে জ্বলিতেছিল। মনে করিলাম ঘুম যখন হুইবেই ন তখন এই সুযোগে বালক-এর জন্য একটা গল্প ভাবিয়া রাখি। গল্প ভাবিবার ব্যর্থ চেষ্টার টানে গল্প আসিল না, ঘুম আসিয়া পড়িল । স্বপ্ন দেখিলাম, কোন এক মন্দিরের সিঁড়ির উপর বলির রক্তচিন্তু দেখিয়া একটি বালিকা অত্যন্ত করুণ ব্যাকুলতার সঙ্গে তাহার বাপকে জিজ্ঞাসা করিতেছে—বাব, এ কি ! এ যে রক্ত ! ৰালিকার এই কাতরতায় তাহার বাপ অন্তরে ব্যথিত হইয়া অথচ বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনোমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে —জাগিয়া উঠিয়াই মনে হইল, এটি আমার স্বপ্নলব্ধ গল্প। এমন স্বপ্নে পাওয়া গল্প এবং অন্য লেখা আমার আরো আছে। এই স্বপ্নটির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দমাণিক্যের পুরাবৃত্ত মিশাইয়া “রাজর্ষি” গল্প মাসে মাসে লিথিতে লিখিতে বালক-এ বাহির করিতে লাগিলাম । তখনকার দিনগুলি নির্ভাবনার দিন ছিল । কি আমার জীবনে কি আমার গদ্যেপদ্যে কোনো প্রকার অভিপ্রায় আপনাকে একাগ্রভাবে প্রকাশ করিতে চায় নাই। পথিকের দলে তখন যোগ দিই নাই, কেবল পথের ধারের ঘরটাতে আমি বসিয়া থাকিতাম | পথ দিয়া নানা লোক নানা কাজে চলিয়। যাইত, আমি চাহিয়া দেখিতাম—এবং বর্ষ। শরৎ বসন্ত দূর প্রবাসের অতিথির মত অনাহুত আমার ঘরে আসিয়া বেলা কাটাইয়া দিত — কিন্তু শুধু কেবল শরৎ বসন্ত লইয়াই আমার কারবার ছিল না। আমার ছোট ঘরটাতে কত অদ্ভুত মানুষ যে মাঝেমাঝে দেখা করিতে আসিত তাহার আর সীমা নাই ; তাহারা যেন নোঙর-ছেড়া নৌকা—কোনে তাহদের প্রয়োজন নাই কেবল ভাসিয় বেড়াইতেছে। উহারই মধ্যে দুই একজন লক্ষীছাড়া বিনা পরিশ্রমে আমার দ্বারা অভাবপূরণ করিয়া লইবার জন্য নানা ছল করিয়া আমার কাছে আসিত। কিন্তু আমাকে ফঁাকি দিতে কোনো কৌশলেরই প্রয়োজন ছিল না—তখন আমার সংসারভার লঘু ছিল এবং বঞ্চনাকে বঞ্চন বলিয়াই চিনিতাম না। আমি অনেক ছাত্রকে দীৰ্ঘকাল পড়িবার বেতন দিয়াছি যাহাদের পক্ষে বেতন নিম্প্রয়োজন এবং পড়াটার প্রথম হইতে শেষ পর্য্যন্তই