পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বঙ্কিমচন্দ্র । ➢ ጫማ গতজন্মের কন্যাদায় কোনোমতেই আমি গ্রহণ করিতে সম্মত হই লাম না । এদিকে শ্ৰীশচন্দ্র মজুমদার মহাশয়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব জমিয়া উঠিয়াছে। সন্ধ্যার সময় প্রায় আমার সেই ঘরের কোণে তিনি এবং প্রিয়বাবু আসিয়া জুটিতেন। গানে এবং সাহিত্যালোচনায় রাত হইয়। যাইত। কোনো কোনো দিন, দিনও এমনি করিয়৷ কাটিত । আসল কথা, মানুষের “আমি” বলিয়া পদার্থটা যখন নানাদিক হইতে প্রবল ও পরিপুষ্ট হইয়া না ওঠে তখন যেমন তাহার জীবনট বিনা ব্যাঘাতে শরতের মেঘের মত ভাসিয়া চলিয়া যায় আমার তখন সেইরূপ অবস্থ। । বঙ্কিমচন্দ্র । এই সময়ে বঙ্কিমবাবুর সঙ্গে আমার আলাপের সূত্রপাত হয়। র্তাহাকে প্রথম যখন দেখি সে অনেক দিনের কথা । তখন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ছাত্রেরা মিলিয়া একটি বার্ষিক সম্মিলনী স্থাপন করিয়াছিলেন। চন্দ্রনাথ বস্তু মহাশয় তাহার প্রধান উদ্যোগী ছিলেন । বোধকরি তিনি আশা করিয়াছিলেন কোনো এক দূর ভবিষ্যতে আমিও তাহাদের এই সম্মিলনীতে অধিকার লাভ করিতে পারিব—সেই ভরসায় আমাকেও মিলনস্থানে কি একটা কবিতা পড়িবার ভার দিয়াছিলেন। তখন তাহার যুবা বয়স ছিল । মনে আছে, কোনে জৰ্ম্মান যোদ্ধ কবির যুদ্ধকবিতার ইংরেজি তর্জমা তিনি সেখানে স্বয়ং পড়িবেন এইরূপ সংকল্প করিয়া খুব উৎসাহের সহিত আমাদের বাড়িতে সেগুলি আবৃত্তি করিয়াছিলেন । কবিবীরের বামপাশ্বের প্রেয়সী সঙ্গিনী তরবারীর প্রতি তাহার প্রেমোচ্ছাসগীতি যে একদিন চন্দ্রনাথ বাবুর প্রিয় কবিতা ছিল ইহাতে পাঠকেরা বুঝিবেন যে, কেবল যে এক সময়ে চন্দ্রনাথ বাবু যুবক ছিলেন তাহা নহে তখনকার সময়টাই কিছু অন্যরকম ছিল। সেই সম্মিলনসভার ভিড়ের মধ্যে ঘুরিতে ঘুরিতে নান লোকের মধ্যে হঠাৎ এমন একজনকে দেখিলাম যিনি সকলের হইতে স্বতন্ত্র—যাহাকে অস্ত ২৩