পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


る"b" জীবন-স্মৃতি । পাঁচজনের সঙ্গে মিশাইয়া ফেলিবার জো নাই। সেই গৌরকাস্তি দীর্ঘকায় পুরুষের মুখের মধ্যে এমন একটি দৃপ্ত তেজ দেখিলাম যে র্তাহার পরিচয় জানিবার কৌতুহল সম্বরণ করিতে পারিলাম না। সেদিনকার এত লোকের মধ্যে কেবলমাত্র, তিনি কে, ইহাই জানিবার জন্য প্রশ্ন করিয়াছিলাম । যখন উত্তরে শুনিলাম তিনিই বঙ্কিমবাবু, তখন বড় বিস্ময় জন্মিল। লেখা পড়িয়া এতদিন যাহাকে মহৎ বলিয়া জানিতাম চেহারাতেও তাহার বিশিষ্টতার যে এমন একটি নিশ্চিত পরিচয় আছে সে কথা সেদিন আমার মনে খুব লাগিয়াছিল। বঙ্কিমবাবুর খড়গনাসায়, তাহার চাপা ঠোঁটে তাহার তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে ভারি একটা প্রবলতার লক্ষণ ছিল । বক্ষের উপর দুই হাত বদ্ধ করিয়া তিনি যেন সকলের নিকট হইতে পৃথক হইয়া চলিতেছিলেন, কাহারও সঙ্গে যেন তার কিছুমাত্র গা-ঘেঁষাৰ্ঘেষি ছিল না, এইটেই সর্ববাপেক্ষা বেশি করিয়া আমার চোখে ঠেকিয়াছিল। র্তাহার যে কেবলমাত্র বুদ্ধিশালী মননশীল লেখকের ভাব তাহা নহে তাহার ললাটে যেন একটি অদৃশ্য রাজতিলক পরানো ছিল। এইখানে একটি ছোট ঘটনা ঘটিল তাহার ছবিটি আমার মনে মুদ্রিত হইয়া গিয়াছে। একটি ঘরে একজন সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত স্বদেশ সম্বন্ধে তাহার কয়েকটি স্বরচিত শ্লোক পড়িয়া শ্রোতাদের কাছে তাহার বাংলা ব্যাখ্যা করিতেছিলেন। বঙ্কিম বাবু ঘরে ঢুকিয় এক প্রান্তে দাড়াইলেন। পণ্ডিতের কবিতার একস্থলে, অশ্লীল নহে, কিন্তু, ইতর একটি উপমাছিল । পণ্ডিতমহাশয় যেমন সেটিকে ব্যাখ্যা করিতে আরম্ভ করিলেন অমনি বঙ্কিম বাবু হাত দিয়া মুখ চাপিয়া তাড়াতাড়ি সে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেলেন। দরজার কাছ হইতে র্তাহার সেই দৌড়িয়া পালানোর দৃশুটা যেন আমি চোখে দেখিতে গাইতেছি । তাহার পরে অনেকবার তাহাকে দেখিতে ইচ্ছা হইয়াছে কিন্তু উপলক্ষ্য ঘটে নাই। অবশেষে একবার, যখন হাওড়ায় তিনি ডেপুটি মাজিষ্ট্রেট ছিলেন, তখন সেখানে তাহার বাসায় সাহস করিয়া দেখা করিতে গিয়াছিলাম । দেখা হইল, যথাসাধ্য আলাপ করিবারও চেষ্টা করিলাম, কিন্তু ফিরিয়া আসিবার