পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>b”● জীবন-স্মৃতি। আবার একবার সাহস করিয়া যাতায়াত করিতে আরম্ভ করিয়াছি । তখন তিনি ভবানীচরণ দত্তর ষ্ট্রীটে বাস করিতেন। বঙ্কিমবাবুর কাছে যাইতাম বটে কিন্তু বেশি কিছু কথাবাৰ্ত্ত হইত না । আমার তথন শুনিবার বয়স, কথা বলিবার বয়স নহে। ইচ্ছা করিত আলাপ জমিয় উঠুক কিন্তু সঙ্কোচে কথা সরিত না। একএকদিন দেখিতাম সঞ্জীব বাবু তাকিয়া অধিকার করিয়া গড়াইতেছেন। তাহাকে দেখিলে বড় খুসি হইতাম । তিনি আলাপী লোক ছিলেন। গল্প করায় তাহার আনন্দ ছিল এবং তাহার মুখে গল্প শুনিতেও আনন্দ হইত। যাহার। তাহার প্রবন্ধ পড়িয়াছেন তাহারা নিশ্চয়ই ইহা লক্ষ্য করিয়াছেন যে সে লেখাগুলি কথা কহার অজস্র আনন্দবেগেই লিখিত—ছাপার অক্ষরে আসর জমাইয় যাওয়া ; এই ক্ষমতাটি অতি অল্প লোকেরই আছে ; তাহার পরে সেই মুখে বলার ক্ষমতাটিকে লেখার মধ্যেও তেমনি অবাধে প্রকাশ করিবার শক্তি আরো কম লোকের দেখিতে পাওয়া যায় । এই সময়ে কলিকাতায় শশধর তর্কচূড়ামণি মহাশয়ের অভু্যদয় ঘটে । বঙ্কিম বাবুর মুগেই তাহার কথা প্রথম শুনিলাম। আমার মনে হইতেছে প্রথমটা বঙ্কিম বাবুই সাধারণের কাছে তাতার পরিচয়ের সূত্রপাত করিয়া দেন। সেই সময়ে হঠাৎ হিন্দুধৰ্ম্ম পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের সাক্ষ্য দিয়া আপনার কৌলীন্য প্রমাণ করিবার যে অদ্ভুত চেষ্টা করিয়াছিল তাঙ্গ দেখিতে দেখিতে চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল। ইতিপূর্বে দীঘকাল ধরিয়৷ থিয়সফিই আমাদের দেশে এই আন্দোলনের ভূমিকা প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছিল। কিন্তু বঙ্কিম বাবু যে ইহার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারিয়াছিলেন তাহ নহে। তাহার প্রচার পত্রে তিনি যে ধৰ্ম্মব্যাখ্যা করিতেছিলেন তাহার উপরে তর্কচূড়ামণির ছায় পড়ে নাই, কারণ তাহা একেবারেই অসম্ভব ছিল। আমি তখন আমার কোণ ছাড়িয়া বাহিরে আসিয়া পড়িতেছিলাম আমার তখনকার এই আন্দোলনকালের লেখাগুলিতে তাহার পরিচয় আছে । তাহার কতক বা ব্যঙ্গকাব্যে, কতক বা কৌতুকনাটো, কতক বা তথনকার সঞ্জীবনী