পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৃত্যুশোক । ᎼᎿᏉ9 কৰ্ম্মচারীরা যে তপস্বীর মত উপবাস করিতেছিল এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় নাই, অতএব যাত্রীদের জন্যও জলযোগের ব্যবস্থা ছিল কৰ্ম্মচারীরাও বঞ্চিত হয় নাই, কিন্তু সকলের চেয়ে মহত্তম লাভ রহিল জ্যোতিদাদার—সে র্তাহার এই সর্ববস্ব-ক্ষতিস্বীকার । তখন খুলনা বরিশালের নদীপথে প্রতিদিনের এই জয়পরাজয়ের সংবাদ আলোচনায় আমাদের উত্তেজনার অন্ত ছিল না । অবশেষে একদিন খবর আসিল তাহার স্বদেশী নামক জাহাজ হাবড়ার ব্রিজে ঠেকিয় ডুবিয়াছে। এইরূপে যখন তিনি র্তাহার নিজের সাধ্যের সীমা একেবারে সম্পূর্ণ অতিক্রম করিলেন, নিজের পক্ষে কিছুই আর বাকি রাখিলেন না তখনি তাহার ব্যবসা বন্ধ হইয়া গেল । মৃত্যুশোক । ইতিমধ্যে বাড়িতে পরে পরে কয়েকটি মৃত্যুঘটন ঘটিল। ইতিপূর্বে মৃত্যুকে আমি কোনোদিন প্রত্যক্ষ করি নাই। মার যখন মৃত্যু হয় আমার তখন বয়স অল্প। অনেকদিন হইতে তিনি রোগে ভুগিতেছিলেন, কখন যে র্তাহার জীবনসঙ্কট উপস্থিত হইয়াছিল তাহ জানিতেও পাই নাই। এতদিন পর্য্যন্ত যে ঘরে আমরা শুইতাম সেই ঘরেই স্বতন্ত্ৰ শয্যায় মা শুইতেন । কিন্তু তাহার রোগের সময় একবার কিছুদিন তাহাকে বোটে করিয়া গঙ্গায় বেড়াইতে লইয়া যাওয়া হয়—তাহার পরে বাড়িতে ফিরিয়া তিনি অন্তঃপুরের তেতালার ঘরে থাকিতেন। যে রাত্রিতে র্তাহার মৃত্যু হয় আমরা তখন ঘুমাইতেছিলাম, তখন কত রাত্রি জানি না একজন পুরাতন দাসী আমাদের ঘরে ছুটিয়া আসিয়া চীৎকার করিয়া কাদিয়া উঠিল, “ওরে তোদের কি সৰ্ব্বনাশ হলরে!” তখনি বে ঠাকুরাণী তাড়াতাড়ি তাহাকে ভৎসনা করিয়া ঘর হইতে টানিয়া বাহির করিয়া লইয়া গেলেন–পাছে গভীর রাত্রে আচমকা আমাদের মনে গুরুতর আঘাত লাগে এই আশঙ্কা তাহার ছিল । স্তিমিত প্রদীপে অস্পষ্ট আলোকে ক্ষণকালের জন্য জাগিয়া উঠিয়া হঠাৎ বুকট দমিয়া গেল কিন্তু কি হইয়াছে