পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>bや জীবন-স্মৃতি । তাকে মামুষ কোনোমতেই অন্তরের সঙ্গে বিশ্বাস করিতে পারে না । যাহা নাই তাহাই মিথ্যা—যাহা মিথ্য তাহ নাই । এই জন্যই যাহা দেখিতেছিনা, তাহার মধ্যে দেখিবার চেষ্টা, যাহা পাইতেছি না তাহার মধ্যেই পাইবার সন্ধান কিছুতেই থামিতে চায় না । চার গাছকে অন্ধকার বেড়ার মধ্যে ঘিরিয়া রাখিলে তাহার সমস্ত চেষ্ট। যেমন সেই অন্ধকারকে কোনোমতে ছাড়াইয়া আলোকে মাথা তুলিবার জন্য পদাঙ্গ লিতে ভর করিয়া যথাসম্ভব খাড়া হইয় উঠিতে থাকে—তেমনি, মৃত্যু যখন মনের চারিদিকে হঠাৎ একটা “নাই”অন্ধকারের বেড়া গাড়িয় দিল, তখন সমস্ত মনপ্রাণ অহোরাত্র দুঃসাধ্য চেষ্টায় তাহারই ভিতর দিয়া কেবলি “আছে”-তালোকের মধ্যে বাহির হইতে চাহিল । কিন্তু সেই অন্ধকারকে অতিক্রম করিবার পথ অন্ধকারের মধ্যে যখন দেখা যায়ন তখন তাহার মত দুঃখ আর কি আছে ! তবু এই দুঃসহ দুঃখের ভিতর দিয়া আমার মনের মধ্যে ক্ষণে ক্ষণে একটা আকস্মিক আনন্দের হাওয়া বহিতে লাগিল, তাহাতে আমি নিজেই আশ্চর্য্য হইতাম । জীবন যে একেবারে অবিচলিত নিশ্চিত নহে এই দুঃখের সংবাদেই মনের ভার লঘু হইয়া গেল। আমরা যে নিশ্চল সত্যের পাথরে গাথা দেয়ালের মধ্যে চিরদিনের কয়েদ নহি এই চিন্তায় আমি ভিতরে ভিতরে উল্লাস বোধ করিতে লাগিলাম। যাহাকে ধরিয়াছিলাম তাহাকে ছাড়িতেই হইল এইটাকে ক্ষতির দিক দিয়া দেখিয়া যেমন বেদন পাইলাম তেমনি সেইক্ষণেই ইহাকে মুক্তির দিক দিয়া দেখিয় একটা উদার শান্তি বোধ করিলাম। সংসারের বিশ্বব্যাপী অতি বিপুল ভার জীবনমৃত্যুর হরণপূরণে আপনাকে আপনি সহজেই নিয়মিত করিয়৷ চারিদিকে কেবলি প্রবাহিত হইয়া চলিয়াছে, সে ভার বন্ধ হইয় কাহাকেও কোনোথানে চাপিয়া রাথিয়া দিবেন—একেশ্বর জীবনের দৌরাত্ম্য কাহাকেও বহন করিতে হইবে না—এই কথাটা একটা আশ্চৰ্য্য নূতন সত্যের মত আমি সেদিন যেন প্রথম উপলব্ধি করিয়াছিলাম । সেই বৈরাগ্যের ভিতর দিয়া প্রকৃতির সৌন্দর্য্য আরও গভীররূপে রমণীয় হইয়া উঠিয়াছিল। কিছু দিনের জন্য জীবনের প্রতি আমার অন্ধ আসক্তি