পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মৃত্যুশোক । । >bra একেবারেই চলিয়া গিয়াছিল বলিয়াই চারিদিকে আলোকিত নীল আকাশের মধ্যে গাছপালার আন্দোলন আমার আশ্রবেীত চক্ষে ভারি একটি মাধুরী বর্মণ করিত। জগৎকে সম্পূর্ণ করিয়া এবং সুন্দর করিয়া দেখিবার জন্য যে দূরত্বের প্রয়োজন মৃত্যু সেই দূরত্ব ঘটাইয়া দিয়াছিল। আমি নির্লিপ্ত হইয়৷ দাড়াইয়া মরণের বৃহৎ পটভূমিকার উপর সংসারের ছবিটি দেখলাম এবং জানিলাম তাহ বড় মনোহর । সেই সময়ে আবার কিছুকালের জন্য আমার একটা সৃষ্টিছাড়া রকমের মনের ভাব ও বাহিরের আচরণ দেখা দিয়াছিল। সংসারের লোকলৌকিকতাকে নিরতিশয় সত্যপদার্থের মত মনে করিয় তাহাকে সদাসবিদ মানিয়া চলিতে আমার হাসি পাইত । সে সমস্ত যেন হামার গায়েই ঠেকিত না । কে আমাকে কি মনে করিবে কিছুদিন এ দায় আমার মনে একেবারেই ছিল না । ধুতির উপর গায়ে কেবল একটা মোট চাদর এবং পায়ে একজোড় চটি পরিয়া কতদিন থাকারের বাড়িতে বই কিনিতে গিয়াছি। আহারের ব্যবস্থাটাও অনেক অংশে খাপছাড়া ছিল । কিছুকাল ধরিয়া আমার শয়ন ছিল বৃষ্টি বাদল শীতেও তেতালায় বাহিরের বারান্দায় ; সেখানে আকাশের তারার সঙ্গে আমার চোখোচোথি হইতে পারিত এবং ভোরের অালোর সঙ্গে অামার সাক্ষাতের বিলম্ব হইত না । এসমস্ত যে বৈরাগ্যের কৃচ্ছসাধন তাহা একেবারেই নহে। এ যেন আমার একটা ছুটির পালা, সংসারের বেত হাতে গুরুমহাশয়কে যখন নিতান্ত একটা ফাকি বলিয় মনে হইল তখন পাঠশালার প্রত্যেক ছোট ছোট শাসনও এড়াইয়া মুক্তির আস্বাদনে প্রবৃত্ত হইলাম। একদিন সকালে ঘুম হইতে জাগিয়াই যদি দেখি পৃথিবীর ভারাকর্ষণটা একেবারে অৰ্দ্ধেক কমিয়া গিয়াছে তাহা হইলে কি আর সরকারী রাস্ত বাহিয়া সাবধানে চলিতে ইচ্ছা করে ? নিশ্চয়ই তাহা হইলে হ্যারিসন রোডের চারতলা পাচতল বাড়িগুল বিনা কারণেই লাফ দিয়া ডিঙাইয়া চলি, এবং ময়দানে হাওয়া খাইবার সময় যদি সামনে অষ্টলনি মনুমেন্টটা আসিয় পড়ে তাহা হইলে ঐটুকুখানি পাশ