পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>brb" জীবন-স্মৃতি । কাটাইতেও প্রবৃত্তি হয় না, ধ। করিয়া তাহাকে লঙ্ঘন করিয়া পার হইয়া যাই। আমারও সেই দশা ঘটিয়াছিল—পায়ের নীচে হইতে জীবনের টান কমিয়া যাইতেই আমি বাধা রাস্ত একেবারে ছাড়িয়া দিবার জো করিয়াছিলাম । বাড়ির ছাদে একলা গভীর অন্ধকারে মৃত্যুরাজ্যের কোনো একটা চুড়ার উপরকার একটা ধ্বজপতাকা, তাহার কালে পাথরের তোরণদ্বারের উপরে অণক পাড়া কোনো একটা অক্ষর কিম্বা একটা চিহ্ন দেখিবার জন্য আমি যেন সমস্ত রাত্রিটার উপর অন্ধের মত দুইহাত বুলাইয়া ফিরিতাম। আবার সকাল বেলায় যখন আমার সেই বাহিরের পাতা বিছানার উপরে ভোরের আলো আসিয়া পড়িত তখন চোখ মেলিয়াই দেখিতাম আমার মনের চারিদিকের আবরণ যেন স্বচ্ছ হইয়া আসিয়াছে ; কুয়াশা কাটিয়া গেলে পৃথিবীর নদী গিরি অরণ্য যেমন ঝলমল করিয় ওঠে জীবনলোকের প্রসারিত ছবিখানি আমার চোখে তেমনি শিশিরসিক্ত নবীন ও সুন্দর করিয়া দেখা দিয়াছে । বর্ষা ও শরৎ । এক এক বৎসরে বিশেষ এক একটা গ্রহ রাজার পদ ও মন্ত্রীর পদ লাভ করে, পঞ্জিকার আরম্ভেই পশুপতি ও হৈমবতীর নিভৃত অtলাপে তাহার সংবাদ পাই । তেমনি দেখিতেছি জীবনের এক এক পর্য্যায়ে এক একটী ঋতু বিশেষভাবে আধিপত্য গ্রহণ করিয়া থাকে। বাল্যকালের দিকে যখন তাকাইয় দেখি তখন সকলের চেয়ে স্পষ্ট করিয়া মনে পড়ে তখনকার বর্ষার দিনগুলি । বাতাসের বেগে জলের ছাটে বারান্দ একেবারে ভাসিয়া যাইতেছে, সারি সারি ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ হইয়াছে, প্যীরবুড়ি কক্ষে একটা বড় ঝুড়িতে তরী তরকারী বাজার করিয়া ভিজিতে ভিজিতে জল কাদা ভাঙিয়া আসিতেছে, আমি বিনা কারণে দীর্ঘ বারান্দায় প্রবল আনন্দে ছুটিয় বেড়াইতেছি । আর মনে পড়ে ইস্কুলে গিয়াছি ; দরমায় ঘেরা দালানে আমাদের ক্লাস বসিয়াছে ;—অপরাহ্লে ঘনঘোর মেঘের স্তপে স্ত,পে আকাশ ছাইয়া গিয়াছে –দেখিতে দেখিতে নিবিড় ধারায় বৃষ্টি নামিয়া আসিল; থাকিয় থাকিয় দীর্ঘ একটানা মেঘ-ডাকার ।