পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বর্ম ও শরৎ । brసి শব্দ ; আকাশটাকে যেন বিদ্যুতের নখ দিয়া এক প্রান্ত হইতে আর এক প্রান্ত পৰ্য্যন্ত কোন পাগলী ছিড়িয়া ফাড়িয়া ফেলিতেছে ; বাতাসের দমকায় দরমার বেড়া ভাঙিয়া পড়িতে চায়, অন্ধকারে ভাল করিয়া বইয়ের অক্ষর দেখা যায় না—পণ্ডিত মশায় পড়া বন্ধ করিয়া দিয়াছেন ; বাহিরের ঝড় বাদলটার উপরেই ছুটাছুটি মাতামাতির বরাত দিয়া বদ্ধ ছুটিতে বেঞ্চির উপরে বসিয়া পা দুলাইতে দুলাইতে মনটাকে তেপান্তরের মাঠ পার করিয়া দৌড় করাইতেছি । আরো মনে পড়ে শ্রাবণের গভীর রাত্রি, ঘুমের ফাকের মধ্য দিয়া ঘনবৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মনের ভিতরে সুপ্তির চেয়েও নিবিড়তর একটা পুলক জমাইয় তুলিতেছে ; একটু যেই ঘুম ভাঙিতেছে মনে মনে প্রার্থনা করিতেছি সকালেও যেন এই বৃষ্টির বিরাম না হয় এবং বাহিরে গিয়া যেন দেখিতে পাই, আমাদের গলিতে জল দাড়াইয়াছে এবং পুকুরের ঘাটের একটি ধাপও আর জাগিয়া নাই । কিন্তু আমি যে সময়কার কথা বলিতেছি সে সময়ের দিকে তাকাইলে দেখিতে পাই তখন শরৎঋতু সিংহাসন অধিকার করিয়া বসিয়াছে । তখনকার জীবনটা আশ্বিনের একটা বিস্তীর্ণ স্বচ্ছ অবকাশের মাঝখানে দেখা যায়— সেই শিশিরে ঝলমল করা সরস সবুজের উপর সোনা গলানো রৌদ্রের মধ্যে মনে পড়িতেছে দক্ষিণের বারান্দায় গান বাধিয়া তাহাতে যোগিয়া স্থর লাগাইয়া গুন গুন করিয়া গাহিয়৷ বেড়াইতেছি—সেই শরতের সকালবেলায় । “আজি শরততপনে প্রভাতস্বপনে কি জানি পরাণ কিযে চায় ।” বেলা বাড়িয়া চলিতেছে—বাড়ির ঘণ্টায় দুপুর বাজিয়া গেল—একটা মধ্যাহ্নের গানের আবেশে সমস্ত মনটা মাতিয়া আছে, কাজ কৰ্ম্মের কোনো দাবীতে কিছুমাত্র কান দিতেছি না ; সেও শরতের দিনে । “হেলাফেলা সারাবেল এ কি খেলা আপন মনে ৷” মনে পড়ে দুপুর বেলায় জাজিম-বিছানো কোণের ঘরে একটা ছবি অশকার খাতা লইয়া ছবি অশকিতেছি। সে যে চিত্রকলার কঠোর সাধনা তাহা নহে— ·