পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>ふo জীবন-স্মৃতি | সে কেবল ছবি আঁকার ইচ্ছাটাকে লইয়া আপন মনে খেলা করা। যেটুকু মনের মধ্যে থাকিয়া গেল কিছুমাত্র অ্যাক গেল না সেইটুকুই ছিল তাহার প্রধান অংশ । এদিকে সেই কৰ্ম্মহীন শরৎ-মধ্যাহ্রের একটি সোনালিরঙের মাদকতা দেয়াল ভেদ করিয়া কলিকাতা সহরের সেই একটি সামান্য ক্ষুদ্র ঘরকে পেয়ালার মত আগাগোড়া ভরিয়া তুলিতেছে। জানিনা কেন, আমার তখনকার জীবনের দিনগুলিকে যে আকাশ যে আলোকের মধ্যে দেখিতে পাইতেছি তাহা এই শরতের আকাশ, শরতের আলোক । সে যেমন চাষীদের ধান-পাকানো শরৎ, তেমনি সে আমার গান-পাকানো শরৎ,—সে আমার সমস্ত দিনের আলোকময় অবকাশের গোলা বোঝাই করা শরৎ— আমার বন্ধনহীন মনের মধ্যে অকারণ পুলকে ছবি অ্যাকানো গল্প-বানানে শরৎ । সেই বাল্যকালের বর্ষ এবং এই যৌবনকালের শরতের মধ্যে একটা প্রভেদ এই দেখিতেছি যে সেই বর্ষার দিনে বাহিরের প্রকৃতিই অত্যন্ত নিবিড় হইয়৷ আমাকে ঘিরিয়া দাড়াইয়াছে, তাহার সমস্ত দলবল সাজসজ্জা এবং বাজনা বাদ্য লইয়া মহা সমারোহে আমাকে সঙ্গদান করিয়াছে । আর এই শরৎকালের মধুর উজ্জ্বল আলোটির মধ্যে যে উৎসব, তাহ মানুষের । মেঘরৌদ্রের লীলাকে পশ্চাতে রাখিয়া সুখদুঃখের আন্দোলন মৰ্ম্মরিত হইয়া উঠিতেছে, নীল আকশের উপরে মানুষের অনিমেষ দৃষ্টির আবেশটুকু একটা রং মাখাইয়াছে, এবং বাতাসের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের আকাঙক্ষণবেগ নিঃশ্বসিত হইয়া বহিতেছে। আমার কবিতা এখন মানুষের দ্বারে আসিয়া দাড়াইয়াছে। এখানে ত একেবারে অবারিত প্রবেশের ব্যবস্থা নাই ; মহলের পর মহল, দ্বারের পর দ্বার। পথে দাড়াইয় কেবল বাতায়নের ভিতরকার দীপালোক টুকুমাত্র দেখিয়া কতবার ফিরিতে হয়, শানাইয়ের বাঁশিতে ভৈরবীর তান দূর প্রাসাদের সিংহদ্বার হইতে কানে আসিয়া পৌঁছে । মনের সঙ্গে মনের আপোষ, ইচ্ছার সঙ্গে ইচ্ছার বোঝাপড়া, কত বঁfকাচোরা বাধার ভিতর দিয়া দেওয়া এবং নেওয়া । সেই সব ৰাধায় ঠেকিতে ঠেকিতে জীবনের নির্বারধারা মুখরিত উচ্ছাসে হাসিকান্নায়