পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীযুক্ত আশুতোষ চৌধুরী । సి) ফেনাইয়া উঠিয়া নৃত্য করিতে থাকে, পদে পদে আবৰ্ত্ত ঘুরিয়া ঘুরিয়া উঠে এবং তাহার গতিবিধির কোনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায় না । “কড়ি ও কোমল” মানুষের জীবননিকেতনের সেই সম্মুখের রাস্তাটায় দাড়াইয়া গান। সেই রহস্যসভার মধ্যে প্রবেশ করিয়া আসন পাইবার জন্য দরবার । “মরিতে চাহিনী আমি স্থন্দর ভুবনে, মানুষের মাঝে আমি বঁচিবারে চাই ।” বিশ্বজীবনের কাছে ক্ষুদ্র জীবনের এই আত্মনিবেদন । শ্ৰীযুক্ত আশুতোষ চৌধুরী। দ্বিতীয়বার বিলাত যাইবার জন্য যখন যাত্র করি তখন আশুর সঙ্গে জাহাজে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ পাস করিয়া কেম্বি জে ডিগ্রি লইয়া বারি্টর হইতে চলিতেছেন । কলিকাতা হইতে মাদ্রাজ পৰ্য্যন্ত কেবল কয়টা দিনমাত্র আমরা জাহাজে একত্র ছিলাম । কিন্তু দেখা গেল পরিচয়ের গভীরতা দিনসংখ্যার উপর নির্ভর করে না । একটি সহজ সহৃদয়তার দ্বারা অতি অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি এমন করিয়া আমার চিত্ত অধিকার করিয়া লইলেন যে, পূর্বে র্তাহার সঙ্গে যে চেনাশোনা ছিলনা সেই র্যাকটা এই কয়দিনের মধ্যেই যেন আগাগোড় ভরিয়া গেল । আশু বিলাত হইতে ফিরিয়া আসিলে তাহার সঙ্গে আমাদের আত্মীয়সম্বন্ধ স্থাপিত হইল। তখনে বরিষ্টর ব্যবসায়ের বৃহের ভিতরে ঢুকিয়া পড়িয়া ল-য়ের মধ্যে লীন হইবার সময় তাহার হয় নাই। মক্কেলের কুঞ্চিত খলিগুলি পূর্ণবিকশিত হইয়া তখনে স্বর্ণকোষ উন্মুক্ত করে নাই এবং সাহিত্যবনের মধুসঞ্চয়েই তিনি তখন উৎসাহী হইয়। ফিরিতেছিলেন । তখন দেখিতাম সাহিত্যের ভাবুকত একেবারে তাহার প্রকৃতির মধ্যে পরিব্যাপ্ত হইয়৷ গিয়াছিল । তাহার মনের ভিতরে যে সাহিত্যের হাওয়া বহিত তাহার মধ্যে লাইব্রেরি-শেলফের মরক্কে চামড়ার গন্ধ একেবারেই ছিলনা। সেই হাওয়ায়