পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৯২ জীবন-স্মৃতি । সমুদ্রপারের অপরিচিত নিকুঞ্জের নানা ফুলের নিঃশ্বাস একত্র হইয়া মিলিত, তাহার সঙ্গে আলাপের যোগে আমরা যেন কোন একটি দূর বনের প্রান্তে বসন্তের দিনে চড়িভাতি করিতে যাইতাম । ফরাসী কাব্যসাহিত্যের রসে তাহার বিশেষ বিলাস ছিল । আমি তখন কড়ি ও কোমল-এর কবিতাগুলি লিখিতেছিলাম । আমার সেই সকল লেখায় তিনি ফরাসী কোনো কোনো কবির ভাবের মিল দেখিতে পাইতেন । র্তাহার মনে হইয়াছিল, মানবজীবনের বিচিত্র রসলীলা কবির মনকে একান্ত করিয়া টানিতেছে এই কথাটাই কড়ি ও কোমল-এর কবিতার ভিতর দিয়া নানা প্রকারে প্রকাশ পাইতেছে । এই জীবনের মধ্যে প্রবেশ করিবার ও তাহাকে সকল দিক দিয়া গ্রহণ করিবার জন্য একটি অপরিতৃপ্ত আকাঙক্ষ এই কবিতাগুলির মূল কথা । আশু বলিলেন, তোমার এই কবিতাগুলি যথোচিত পর্য্যায়ে সাজাইয়া আমিই প্রকাশ করিব । তাহারই পরে প্রকাশের ভার দেওয়া হইয়াছিল । “মরিতে চাহিনা আমি স্থন্দর ভুবনে”—এই চতুর্দশপদী কবিতাটি তিনিই গ্রন্থের প্রথমেই বসাইয়া দিলেন। র্তাহার মতে এই কবিতাটির মধ্যেই সমস্ত গ্রস্থের মৰ্ম্মকথাটি আছে। অসম্ভব নহে । বাল্যকালে যখন ঘরের মধ্যে বন্ধ ছিলাম তখন অন্তঃপুরের ছাদের প্রাচীরের ছিদ্র দিয়া বাহিরের বিচিত্র পৃথিবীর দিকে উৎস্থকদৃষ্টিতে হৃদয় মেলিয়া দিয়াছি। যৌবনের আরস্তে মানুষের জীবনলোক আমাকে তেমনি করিয়াই টানিয়াছে । তাহারও মাঝখানে আমার প্রবেশ ছিলনা, আমি প্রান্তে দাড়াইয়াছিলাম। খেয় নৌকা পাল তুলিয়া ঢেউয়ের উপর দিয়া পাড়ি দিতেছে—তীরে দাড়াইয়া আমার মন বুঝি তাহার পাটনিকে হাত বাড়াইয়৷ ডাক পাড়িত। জীবন যে জীবনযাত্রায় বাহির হইয়া পড়িতে চায়। কড়ি ও কোমল । জীবনের মাঝখানে ঝাপ দিয়া পড়িবার পক্ষে আমার সামাজিক অবস্থার