পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> ふ8 জীবন-স্মৃতি | উৎসব, সেখানে শানাই বাজিয়া উঠিয়াছে, সেখানে আনাগোনা কলরবের অস্ত নাই ; আমরা বাহির প্রাঙ্গণে দাড়াইয়া লুব্ধ দৃষ্টিতে তাকাইয়া আছি মাত্র— সাজ করিয়া আসিয়া যোগ দিতে পারিলাম কই ? মানুষের বৃহৎ জীবনকে বিচিত্র ভাবে নিজের জীবনে উপলব্ধি করিবার ব্যথিত আকাঙক্ষা, এ যে সেই দেশেই সম্ভব যেখানে সমস্তই বিচ্ছিন্ন এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃত্রিমসীমায় আবদ্ধ। আমি আমার সেই ভূত্যের আঁক। খড়ির গণ্ডির মধ্যে বসিয়া মনে মনে উদার পৃথিবীর উন্মুক্ত খেলাঘরটিকে যেমন করিয়া কামনা করিয়াছি, যৌবনের দিনেও আমার নিভৃত হৃদয় তেমনি বেদনার সঙ্গেই মানুষের বিরাট হৃদয়লোকের দিকে হাত বাড়াইয়াছে। সে যে দুর্লভ, সে যে দুর্গম দূরবর্তী । কিন্তু তাহার সঙ্গে প্রাণের যোগ না যদি বাধিতে পারি, সেখান হইতে হাওয়া যদি না আসে, স্রোত যদি না বহে, পথিকের অব্যাহত আনাগোন। যদি না চলে, তবে যাহা জীর্ণ পুরাতন তাহাই নূতনের পথ জুড়িয়া পড়িয়া থাকে, তাহা হইলে মৃত্যুর ভগ্নাবশেষকে কেহ সরাইয় লয় না, তাহ কেবলি জীবনের উপরে চাপিয়া চাপিয়া পড়িয়া তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলে । বর্ষার দিনে কেবল ঘনঘটা এবং বর্মণ । শরতের দিনে মেঘরৌদ্রের খেলা আছে কিন্তু তাহাই আকাশকে আবৃত করিয়া নাই, এদিকে ক্ষেতে ক্ষেতে ফসল ফলিয়া উঠিতেছে । তেমনি আমার কাব্যলোকে যখন বৰ্মার দিন ছিল তখন কেবল ভবাবেগের বাপ এবং বায়ু এবং বর্ষণ । তখন এ লোমেলে৷ ছন্দ এবং অস্পষ্ট বাণী ; কিন্তু শরৎকালের কড়ি ও কোমলে কেবলমাত্র আকাশে মেঘের রঙ্গ নহে সেখানে মাটিতে ফসল দেখা দিতেছে । এবার বাস্তবসংসারের সঙ্গে কারবারে ছন্দ ও ভাষা নানাপ্রকার রূপ ধরিয়া উঠিবার চেষ্টা করিতেছে । এবারে একটা পালা সাঙ্গ হইয়া গেল। জীবনে এখন ঘরের ও পরের, অন্তরের ও বাহিরের মেলামেলির দিন ক্রমে ঘনিষ্ঠ হইয়া আসিতেছে । এখন হইতে জীবনের যাত্রা ক্রমশই ডাঙার পথ বাহিয়৷ লোকালয়ের ভিতর