পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭
ভৃত্যরাজক তন্ত্র।

আমি ভাবিলাম সিঁড়ি সম্বন্ধে বুঝি তিনি অনাবশ্যক কার্পণ্য করিতেছেন। আমি কেবলি সুর চড়াইয়া বলিতে লাগিলাম, আরো সিঁড়ি, আরো সিঁড়ি, আরো সিঁড়ি; শেষকালে যখন বুঝা গেল সিঁড়ির সংখ্যা বাড়াইয়া কোনো লাভ নাই তখন স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম এবং মনে করিলাম এটা এমন একটা আশ্চৰ্য্য খবর যে পৃথিবীতে যাহারা মাস্টার মশায় তাহারাই কেবল এটা জানেন আর কেহ নয়।


ভৃত্যরাজক তন্ত্র।

 ভারতবর্ষের ইতিহাসে দাসরাজাদের রাজত্বকাল সুখের কাল ছিল না। আমার জীবনের ইতিহাসেও ভৃত্যদের শাসনকালটা ষখন আলোচনা করিয়া দেখি তখন তাহার মধ্যে মহিমা বা আনন্দ কিছুই দেখিতে পাই না। এই সকল রাজাদের পরিবর্ত্তন বারম্বার ঘটিয়াছে কিন্তু তামাদের ভাগ্যে সকলতা’তেই নিষেধ ও প্রহারের ব্যবস্থার বৈলক্ষণ্য ঘটে নাই। তখন এ সম্বন্ধে তত্ত্বালোচনার অবসর পাই নাই—পিঠে যাহা পড়িত তাহা পিঠে করিয়াই লইতাম এবং মনে জানিতাম সংসারের ধৰ্ম্মই এই—বড় যে সে মারে, ছোট যে সে মার খায়। ইহার বিপরীত কথাটা, অর্থাৎ, ছোট যে সেই মারে, বড় যে সেই মার খায়—শিখিতে বিস্তর বিলম্ব হইয়াছে।

 কোন্‌টা দুষ্ট এবং কোন্‌টা শিষ্ট, ব্যাধ তাহ পাখীর দিক হইতে দেখে না, নিজের দিক হইতেই দেখে। সেই জন্য গুলি খাইবার পূর্ব্বেই যে সতর্ক পাখী চীৎকার করিয়া দল ভাগায় শিকারী তাহকে গালি দেয়। মার খাইলে আমরা কাঁদিতাম, প্রহারকর্ত্তা সেটাকে শিষ্টোচিত বলিয়া গণ্য করিত না। বস্তুত সেটা ভৃত্যরাজদের বিরুদ্ধে সিডিশন্‌। আমার বেশ মনে আছে সেই সিডিশন্‌ সম্পূর্ণ দমন করিবার জন্য জল রাখিবার বড় বড় জালার মধ্যে আমাদের রোদনকে বিলুপ্ত করিয়া দিবার চেষ্টা করা হইত। রোদন জিনিষটা প্রহারকারীর পক্ষে অত্যন্ত অপ্রিয় এবং অসুবিধাজনক একথা কেহই অস্বীকার করিতে পারিবে না।

 এখন এক-একবার ভাবি ভৃত্যদের হাত হইতে কেন এমন নিৰ্ম্মম ব্যবহার