পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নানা বিদ্যার আয়োজন । २ १ তাহার পরে সেই মাটিমাখা শরীরের উপরে জাম পরিয়া পদার্থবিদ্যা, মেঘনাদবধকাব্য, জ্যামিতি, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল শিখিতে হইত। স্কুল হইতে ফিরিয়া আসিলেই ডয়িং এবং জিম্নাষ্টিকের মাস্টার আমাদিগকে লইয়া পড়িতেন। সন্ধ্যার সময় ইংরাজি পড়াইবার জন্য অঘোর বাবু আসিতেন । এইরূপে রাত্ৰি নটার পর ছুটি পাইতাম । রবিবার সকালে বিষ্ণুর কাছে গান শিখিতে হইত। তা ছাড়া প্রায় মাঝে মাঝে সীতানাথ দত্ত মহাশয় অসিা যন্ত্রতন্ত্রযোগে প্রাকতবিজ্ঞান শিক্ষা দিতেন। এই শিক্ষাটি আমার কাছে বিশেষ ঔৎসুকাজনক ছিল । জ্বাল দিবার সময় তাপসংযোগে পাত্রের নীচের জল পাৎলা হইয়া উপরে উঠে, উপরের ভারি জল নীচে নামিতে থাকে, এবং এই জন্যই জল টগ্‌বগ্‌ করে, ইহাই যেদিন তিনি কাচপাত্রে জলে কাঠের গুড়া দিয়া আগুনে চড়াইয় প্রত্যক্ষ দেখাইয়া দিলেন সেদিন মনের মধ্যে যে কিরূপ বিস্ময় অনুভব করিয়াছিলাম তাহ আজও স্পষ্ট মনে আছে । দুধের মধ্যে জল জিনিসটা যে একটা স্বতন্ত্র বস্তু, জ্বাল দিলে সেটা বাষ্প আকারে মুক্তিলাভ করে বলিয়াই দুধ গাঢ় হয় এ কথাটাও যেদিন স্পষ্ট বুঝিলাম সেদিনও ভারি আনন্দ হইয়াছিল। যে রবিবারে সকালে তিনি না আসিতেন, সে রবিবার আমার কাছে রবিবার বলিয়াই মনে হইত না । ইহা ছাড়া ক্যান্সেল মেডিকেল স্কুলের একটি ছাত্রের কাছে কোনো এক সময়ে অস্থিবিদ্যা শিখিতে আরম্ভ করিলাম। তার দিয়া জোড়া একটি নরকঙ্কাল কিনিয়া অনিয়া আমাদের ইস্কুল ঘরে লটকাইয় দেওয়া হইল । ইহারি মাঝে একসময়ে হেরম্ব তত্ত্বরত্ব মহাশয় আমাদিগকে একেবারে “মুকুন্দং সচ্চিদানন্দং হইতে আরম্ভ করিয়া মুগ্ধবোধের সূত্র মুখস্থ করাইতে সুরু করাইয়া দিলেন। অস্থিবিদ্যার হাড়ের নামগুলা এবং বোপদেবের সূত্র, দুইয়ের মধ্যে জিত কাহার ছিল তাহা ঠিক করিয়া বলিতে পারি না । আমার বোধ হয় হাড়গুলিই কিছু নরম ছিল । বাংলা শিক্ষা যখন বহুদূর অগ্রসর হইয়াছে তখন আমরা ইংরেজি শিখিতে আরস্ত করিয়াছি। আমাদের মাষ্টার অঘোর বাবু মেডিকেল কলেজে