পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ミb" জীবন-স্মৃতি i পড়িতেন । সন্ধ্যার সময় তিনি আমাদিগকে পড়াইতে আসিতেন । কাঠ হইতে অগ্নি উদ্ভাবনটাই মানুষের পক্ষে সকলের চেয়ে বড় উদ্ভাবন এই কথাটা শাস্ত্রে পড়িতে পাই । আমি তাহার প্রতিবাদ করিতে চাই না । কিন্তু সন্ধ্যাবেলায় পার্থীরা অালো জুগলিতে পারে না এটা যে পার্থীর বাচ্ছাদের পরম সৌভাগ্য একথা আমি মনে না করিয়া থাকিতে পারি না। তাহারা যে ভাষা শেখে সেটা প্রাতঃকালেই শেখে এবং মনের আনন্দেই শেখে সেটা লক্ষ্য করিয়া থাকিবেন । অবশু, সেটা ইংরেজি ভাষা নয় একথাও স্মরণ করা উচিত । এই মেডিকেল কলেজের ছাত্র মহাশয়ের স্বাস্থ্য এমন অত্যন্ত অস্ত্যায়রপে ভাল ছিল যে, তাহার তিন ছাত্রের একান্ত মনের কামনাসত্ত্বেও একদিনও র্তাহাকে কমাই করিতে হয় নাই । কেবল একবার যখন মেডিকেল কলেজের ফিরিঙ্গি ছাত্রদের সঙ্গে বাঙালি ছাত্রদের লড়াই হইয়াছিল সেই সময় শত্রদল চৌকি ছুড়িয়া তাহার মাথ ভাঙিয়াছিল। ঘটনাটি শোচনীয় কিন্তু সে সময়টাতে মাষ্টারমহাশয়ের ভাঙা কপালকে আমাদেরই কপালের দোষ বলিয়া গণ্য করিতে পারি নাই, এবং তাহার আরোগ্যলাভকে অনাবশুক দ্রুত বলিয়া বোধ হইয়াছিল । সন্ধ্যা হইয়াছে; মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছে ; রাস্তায় একহাটু জল দাড়াইয়াছে। আমাদের পুকুর ভৰ্ত্তি হইয়া গিয়াছে ; বাগানের বেলগাছের ঝণকড়া মাথাগুলা জলের উপরে জাগিয়া আছে ; বৰ্মাসন্ধ্যার পুলকে মনের ভিতরট কদম্ব ফুলের মত রোমাঞ্চিত হইয় উঠিয়াছে । মাস্টার মহাশয়ের আসিবার সময় ছ চার মিনিট অতিক্রম করিয়াছে। তবু এখনও বলা যায় না। রাস্তার সম্মুখের বারান্দাটাতে চৌকি লইয়৷ গলির মোড়ের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকাইয়া আছি । “পততি পতত্রে বিচলতি পত্রে শঙ্কিত ভবভূপঘানং’ যা’কে বলে ! এমন সময় বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডটা যেন হঠাৎ আছাড় খাইয়া “হী হতোহস্মি” করিয়া পড়িয়া গেল। দৈবসুৰ্য্যোগে অপরাহত সেই কালে ছাতটি দেখা দিয়াছে। হইতে পারে আর কেহ ! না, হইতেই পারে না ।