পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\9 o জীবন-স্মৃতি নাই । কলকৌশল যত বড় আশ্চৰ্য্য হউক না কেন তাহা ত মোট মানুষের চেয়ে বড় নহে । তখন অবশ্য এমন করিয়া ভাবি নাই কিন্তু মনট কেমন একটু স্নান হইল ; মাস্টার মশায়ের উৎসাহের সঙ্গে ভিতর হইতে যোগ দিতে পারিলাম না। কথা কওয়ার আসল রহস্যটুকু যে সেই মানুষটির মধ্যেই আছে এই কণ্ঠনলীর মধ্যে নাই, দেহব্যবচ্ছেদের কালে মাস্টারমশায় বোধ হয় তাহা খানিকটা ভুলিয়াছিলেন এইজন্যই তাহার কণ্ঠনলির ব্যাখ্যা সেদিন বালকের মনে ঠিকমত বজে নাই । তার পরে একদিন তিনি আমাদিগকে মেডিকাল কলেজের শবব্যবচ্ছেদের ঘরে লইয়া গিয়াছিলেন । টেবিলের উপর একটি বৃদ্ধার মৃতদেহ শয়ন ছিল ; সেটা দেখিয়া আমার মন তেমন চঞ্চল হয় নাই ; কিন্তু মেজের উপরে একখণ্ড কাটা পা পড়িয়াছিল সে দৃশ্বে আমার সমস্ত মন একেবারে চমকিয় উঠিয়াছিল। মানুষকে এইরূপ টুকরা করিয়া দেথা এমন ভয়ঙ্কর, এমন অসঙ্গত যে সেই মেজের উপর পড়িয়া থাকা একটা কৃষ্ণবর্ণ, অর্থহীন পায়ের কথা আমি অনেক দিন পর্য্যন্ত ভুলিতে পারি নাই । প্যারি সরকারের প্রথম দ্বিতীয় ইংরেজি পাঠ কোনে মতে শেষ করিতেই আমাদিগকে মকলকস কোর্স অফ রাডিং শ্রেণীর একখানা পুস্তক ধরানো হইল। একে সন্ধাবেলায় শরীর ক্লান্ত এবং মন অন্তঃপুরের দিকে, তাহার পরে সেই বইখানার মলাট কালে এবং মোটা, তাতার ভাষা শক্ত এবং তাহার বিষয়গুলির মধ্যে নিশ্চয়ই দয়ামায়া কিছুই ছিল না, কেননা শিশুদের প্রতি সেকালে মাতা সরস্বর্তার মাতৃভাবের কোনো লক্ষণ দেখি নাই। এখনকার মত ছেলেদের বইয়ে তখন পাতায় পাতায় ছবির চলন ছিলনা। প্রত্যেক পাঠ্যবিষয়ের দেউড়িতেই থাকে-থাকে-সারবাধা সিলেবল-ৰ্মণক-করা বানানগুলো অ্যাকসেণ্ট চিহ্নের তীক্ষ্ণ সঞ্জন উচাইয়া শিশুপালবধের জন্য কাবাজ করিতে থাকিত। ইংরেজি ভাষার এই পাষাণ দুর্গে মাথা ঠুকিয় আমরা কিছুতেই কিছু করিয়া উঠিতে পারিতাম না । মাষ্টার মহাশয় তাহার অপর একটি কোন স্থবোধ ছাত্রের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করিয়া আমদের প্রত্যহ ধিক্কার দিতেন । এরূপ তুলনামূলক সমালোচনায় সেই ছেলেটির প্রতি আমাদের প্রতিসঞ্চার