পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VR জীবন-স্মৃতি । নদীর উপর কালে ছায় ; দেখিতে দেখিতে সশব্দ বৃষ্টির ধারায় দিগন্ত ঝাপ্‌স হইয়া যায়, ওপারের তটরেখা যেন চোখের জলে বিদায়গ্ৰহণ করে, নদী ফুলিয়া ফুলিয় উঠে, এবং ভিজা হাওয়া এপারের ডালপালাগুলার মধ্যে যা-খুসি-তাই করিয়া বেড়ায় । কড়ি-বরগা-দেয়ালের জঠরের মধ্য হইতে বাহিরের জগতে যেন নূতন জন্মলাভ করিলাম। সকল জিনিষকেই আর-একবার নূতন করিয়া জানিতে গিয়া পৃথিবীর উপর হইতে অভ্যাসের তুচ্ছতার আবরণ একেবারে ঘুচিয় গেল। সকাল বেলায় এখো-গুড় দিয়া যে বাসি লুচি খাইতাম নিশ্চয়ই স্বৰ্গলোকে ইন্দ্র যে অমৃত খাইয় থাকেন তাহার সঙ্গে তার স্বাদের বিশেষ কিছু পার্থক্য নাই। কারণ, অমৃত জিনিষটা রসের মধ্যে নাই রসবোধের মধ্যেই আছে —এই জন্য যাহার সেটাকে থোজে তাহার সেটাকে পায়ই ন । যেখানে আমরা বসিতাম তাহার পিছনে প্রাচার দিয়া ঘেরা ঘাটলাধানে একটা খিড়কির পুকুর—ঘাটের পাশেই একটা মস্ত জামরুল গাছ ; চারিধারেই বড় বড় ফলের গাছ ঘন হইয় দাড়াইয়া ছায়ার আড়ালে পুষ্করিণটির আব্রু রচনা করিয়া আছে। এই ঢাকা, ঘেরা, ছায়া-কর, সস্কুচিত একটুখানি খিড়কির বাগানের ঘোমটাপর সৌন্দর্ঘ্য আমার কাছে ভারি মনোহর ছিল । সম্মুখের উদার গঙ্গাতারের সঙ্গে এর কতই তফাৎ। এ যেন ঘরের বধূ। কোণের আড়ালে, নিজের হাতের লতাপাত৷-অর্ণকা সবুজ রঙের কথাটি মেলিয়া দিয়া মধ্যাহ্রের নিভৃত অবকাশে মনের কথাটিকে মুদ্রগুঞ্জনে ব্যক্ত করিতেছে । সেই মধ্যান্ত্রেই অনেকদিন জামরুল গাছের ছায়ায় ঘাটে একলা বসিয়া পুকুরের গভীর তলাটার মধ্যে যক্ষপুরীর ভয়ের রাজ্য কল্পনা করিয়াছি। ংলা দেশের পাড়াগাটাকে ভাল করিয়া দেখিবর জন্য অনেক দিন হইতে মনে আমার ঔৎসুক্য ছিল । গ্রামের ঘরবস্তি চণ্ডীমণ্ডপ রাস্তাঘাট খেলাধূলা হাটমঠ জীবন-যাত্রার কল্পনা আমার হৃদয়কে অত্যন্ত টানিত । সেই পাড়াগ। এই গঙ্গাতারের বাগানের ঠিক একেবারে পশ্চাতেই ছিল— কিন্তু সেখানে আমাদের নিষেধ। আমরা বাহিরে অসিয়াছি কিন্তু স্বাধীনত