পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাহিরে যান । را از عا পাই নাই। ছিলাম খাচায়, এখন বসিয়াছি দাড়ে—পায়ের শিকল কাটিল না । এক দিন আমার অভিভাবকের মধ্যে দুই জনে সকালে পাড়ায় বেড়াইতে গিয়াছিলেন। আমি কে তুঙ্গলের আবেগ সামলাইতে ন পারিয়া তাহাদের অগোচরে পিছনে পিছনে কিছুদূর গিয়াছিলান। গ্রামের গলিতে ঘন বনের ছায়ায় সেওড়ার-বেড়া-দেওয়৷ পানা-পুকুরের ধার দিয়া চলিতে চলিতে বড় আনন্দে এই ছবি আমি মনের মধ্যে তা কিয় তা কিয় লইতেছিলাম । একজন লোক অত বেলায় পুকুরের ধারে গেল। গায়ে দাতন করিতেছিল, তাহ আজও আমার মনে রহিয়া গিয়াতে । এমন সময়ে আমার অগ্রবক্তার হঠাৎ টের পাইলেন আমি পিছনে আছি । তখনই ভৎসনা করিয়া উঠিলেন, যাও, ধ{ও, এখনি ফিরে যা ও !—তাহ দের মনে হইয়াছিল বাহির হইবার মত সাজ হামার ছিল না। পায়ে আমার মেজি নাই, গায়ে একখানি জামার BBB BB BB JK BSBBB BBSBBBBB BBBB BBB BBBB বলিয়া গণ্য করলেন । কিন্তু সোজ এবং পোষাক-পরিচ্ছদের কোনো উপসর্গ আমার ছিলই না, সুতরাং কেবল সেই দিনই যে হতাশ হইয় হইল তহি। নহে, ক্রটি সংশোধন করিয় ভবিষ্যতে আর এক দিন বাহির হইবার উপায়ও রহিল না । সেই পিছনে আমার বাধা রহিল কিন্তু গঙ্গ সম্মুখ হইতে আমার সমস্ত বন্ধন হরণ করিয়া লইলেন । পাল-তোলা নৌকায় যখন-তখন তামার মন বিনাভাড়ায় সওযfাব হইয়া বসিত এবং যে সব দেশে যাত্র করিয়া বাহির হইত ভূগোলে আজ পর্যন্ত তাহদের কোনে পরিচয় পাওয়া যায় নাই । সে হয়ত আজ চল্লিশ বছরের কথা । তারপরে সেই বাগানের পুষ্পিত চাপাতলার স্বানের ঘাটে আর এক দিনের জন্যও পদার্পণ করি নাই । সেই গাছপাল, সেই বাড়িঘর নিশ্চয়ই এখনো আছে, কিন্তু জানি সে বাগান আর নাই ; কেননা বাগান ত গাছপাল দিয় তৈরি নয়, একটি বালকের নবাব ময়ের আনন্দ দিয়া সে গড়—সেই নববিস্ময়টি এখন কোথায় পাওয়া যাইবে ?