পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকণ্ঠবাবু। به روا না । ভাল লাগিবার শক্তি ই হার এতই তাসাধারণ যে মাসিকপত্রের সংক্ষিপ্ত সমালোচকপদলাভের ইনি একেবারেই অযোগ্য । বৃদ্ধ এ কেবারে সুপক্ক বোম্বাই আমটির মত-—তামরসের তা ভাসমাত্রবর্জি ত—র্তাতার স্বভাবের কোথাও এতটুকু অশিও ছিল না । মাথা-ভরা টাক, গোফদাড়ি-কামানে স্নিগ্ধ মধুর মুখ, মুখবিবরের মধ্যে দন্তের কোনে বালাই ছিল না, বড় বড় তুই চক্ষু অবিরাম হাস্তে সমুজ্জ্বল। তাহার স্বাভাবিক ভার গলায় যখন কথা কহিতেন তখন তাহার সমস্ত হাত যুগ চোখ কথা কহিতে থাকিত । ইনি সেকালের পার্সিপড়া রসিক মালুয়, ইংরেজির কোনো ধার ধাপ্লিতেন না । র্তাহার বামপাশ্বের নিত্যসঙ্গন ছিল একটি গুড়গুড়ি, কোলে কোলে সৰ্ব্বদাই ফিরিত একটি সেতার, এবং ক১ে গানের আর বিশ্রাম ছিল না । পরিচয় থাক তার নাই থাক স্বাভাবিক হৃদ্যতার জোরে মানুষমাত্রেরই প্রতি র্ত হার এমন একটি অবধি তাধিকার ছিল যে কেহই সেটি তাস্বীকার করিতে পারিত না । বেশ মনে পড়ে তিনি একদিন আমাদের লইয়া একজন ইংরেজ ছবি ওয়ালার দোকানে ছবি তুলিতে গিয়াছিলেন। তাঙ্গর সঙ্গে হিন্দীতে বাংলাতে তিনি এমনি অলপ জমাইয়৷ তুলিলেন—অত্যন্ত পরিচিত আত্নীয়ের মত তাহাকে এমন জোর করিয়া বলিলেন, ছবিতোলার জন্য অত বেশি দাম আমি কোনোমতেই দিতে পারিব না, আমি গরীব মালুধ,—ন, না, সাহেব সে কিছুতেই হইতে পরিবে ন—মে, সাহেব হাসিয়া সস্তায় তাহার ছবি তুলিয়া দিল। কড়া ইংরেজের দোকানে তাঙ্গর মুখে এমনতর অসঙ্গত অনুরোধ যে কিছুমাত্র অশোভন শোনাইল না তাহার কারণ সকল মানুষের সঙ্গেই র্তাহার সম্বন্ধটি স্বভাবত নিষ্কণ্টক ছিল—তিনি কাহারে সম্বন্ধেই সঙ্কোচ রাখিতেন না, কেননা, তাহার মনের মধ্যে সঙ্কোচের কারণই ছিল না । তিনি এক-একদিন তামাকে সঙ্গে করিয়া একজন য়ুরোপীয় মিশনরির বাড়িতে যাইতেন । সেখানে গিয়া তিনি গান গাহিয়া, সেতার বাজাইয়া, মিশনরির মেয়েদের তাদের করিয়া, তাহাদের বুটপরা ছোট দুইটি পায়ের অজস্র স্তুতিবাদ করিয়া সভা এমন জমাইয়৷ তুলিতেন যে তাহ আর কাহারে