পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীবন-স্মৃতি । ايرانيا দ্বারা কখনই সাধ্য হইত না । আর কেহ এমনতর ব্যাপার করিলে নিশ্চয়ই তাহা উপদ্রব বলিয়া গণ্য হইত—কিন্তু ঐকণ্ঠবাবুর পক্ষে ইহা অতিশষ্যই নহে—এই জন্য সকলেই তাহাকে লইয়৷ হাসিত, খুসি হইত। আবার তাহাকে কোনো অত্যাচারকারী দুৰ্বত্ত আঘাত করিতে পারিত না । অপমানের চেষ্টা তাহার উপরে অপমানরূপে আসিয়া পড়িত না । আমাদের বাড়িতে এক সময়ে একজন বিখ্যাত গায়ক কিছুদিন ছিলেন। তিনি মত্ত অবস্থায় শ্ৰীকণ্ঠবাবুকে যাহা মুখে আসিত তাহাই বলিতেন। শ্ৰীকণ্ঠবাবু প্রসন্নমুখে সমস্তই মানিয়া লইতেন, লেশমাত্র প্রতিবাদ করিতেন না । অবশেষে তাহার প্রতি দুর্ব্যবহারের জন্য সেই গায়কটিকে তামাদের বাড়ি হইতে বিদায় করাই স্থির হইল। ইহাতে শ্ৰীকণ্ঠবাবু ব্যাকুল হইয় তাহাকে রক্ষা করিবার চেষ্টা করিলেন। বারবার করিয়া বলিলেন, ও ত কিছুই করে নাই, মদে করিয়াছে । কেহ দুঃখ পায় ইহা তিনি সহিতে পারিতেন না—ইহার কাহিনীও তাহার পক্ষে অসহ্য ছিল। এই জন্য বালকদের কেহ যখন কৌতুক করিয়া তাঙ্গকে পীড়ন করিতে চাহিত তখন বিদ্যাসাগরের সীতার বনবাস বা শকুন্তলা হইতে কোনো একটা করুণ অংশ তাহাকে পড়িয়া শোনাইত, তিনি দুই হাত মেলিয়া নিষেধ করিয়া অনুনয় করিয়া কোনো মতে থামাইয়া দিবার জন্য ব্যস্ত হইয় পড়িতেন । এই বৃদ্ধটি যেমন আমার পিতার, তেমনি দাদাদের, তেমনি আমাদেরও বন্ধু ছিলেন। আমাদের সকলেরই সঙ্গে তাহার বয়স মিলিত । কবিতা শোনাইবার এমন অনুকূল শ্রোতা সহজে মেলে না। ঝরণার ধারা যেমন এক-টুকরা মুড়ি পাইলেও তাহাকে ঘিরিয়া ঘিরিয়া নাচিয়া মাং করিয়া দেয় তিনিও তেমনি যে-কোনো একটা উপলক্ষ্য পাইলেই আপন উল্লাসে উদ্বেল হইয়া উঠিতেন । দুইটি ঈশ্বরস্তব রচনা করিয়াছিলাম। তাহাতে যথারীতি সংসারের দুঃখকষ্ট ও ভবনস্ত্রণার উল্লেখ করিতে ছাড়ি নাই। শ্ৰীকণ্ঠবাবু মনে করিলেন এমন সৰ্ব্বাঙ্গসম্পূর্ণ পারমার্থিক কবিতা আমার পিতাকে শুনাইলে নিশ্চয়ই তিনি