পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকণ্ঠবাবু। Jసి ভারি খুসি হইবেন । মহা উৎসাহে কবিতা শুনাইতে লইয়া গেলেন । ভাগ্যক্রেমে আমি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলাম না—কিস্তু খবর পাইলাম যে, সংসারের দুঃসহ দাবদাহ এত সকাল সকালই যে র্তাহার কনিষ্ঠ পুত্রকে পীড়া দিতে আরম্ভ করিয়াছে, পয়ারচ্ছন্দে তাহার পরিচয় পাইয়া তিনি খুব হাসিয়াছিলেন। বিষয়ের গাম্ভীর্য্যে র্তাহাকে কিছুমাত্র অভিভূত করিতে পারে নাই। আমি নিশ্চয় বলিতে পারি আমাদের সুপারিন্টেণ্ডেণ্ট গোবিন্দবাবু হইলে সে কবিতা দুটির আদর বুঝিতেন। গানসম্বন্ধে আমি শ্রীকণ্ঠবাবুর প্রিয় শিষ্যছিলাম। র্তাহার একটা গান ছিল—“ময় ছোড়ে ব্রজকি বাসরী।” ঐ গানটি আমার মুখে সকলকে শোনাইবার জন্য তিনি আমাকে ঘরে ঘরে টানিয়া লইয়া বেড়াইতেন । আমি গান ধরিতাম, তিনি সেতারে ঝঙ্কার দিতেন এবং যেখানটিতে গানের প্রধান বোক “ময় ছোড়ো,” সেইখানটাতে মাতিয়া উঠিয়া তিনি নিজে যোগ দিতেন ও অশ্রান্তভাবে সেটা ফিরিয়া ফিরিয়া আবৃত্তি করিতেন এবং মাথা নাড়িয়া মুগ্ধদৃষ্টিতে সকলের মুখের দিকে চাহিয়া যেন সকলকে ঠেলা দিয়া ভাললাগায় উৎসাহিত করিয়া তুলিতে চেষ্টা করিতেন। ইনি আমার পিতার ভক্ত বন্ধু ছিলেন। ইহারই দেওয়া হিন্দী গান হইতে ভাঙা একটি ব্রহ্মসঙ্গীত আছে—“অন্তরতর অন্তরতম তিনি যে—ভুলেনারে তায়।” এই গানটি তিনি পিতৃদেবকে শোনাইতে শোনাইতে আবেগে চৌকি ছাড়িয়া উঠিয়া দাড়াইতেন । সেতারে ঘন ঘন ঝঙ্কার দিয়া একবার বলিতেন—অন্তরতর অন্তরতম তিনি যে—আবার পালটাইয়া লইয় তাহার মুখের সম্মুখে হাত নাড়িয়। বলিতেন “অন্তরতর অন্তরতম তুমি যে ” এই বৃদ্ধ যেদিন আমার পিতার সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করিতে আসেন, তখন পিতৃদেব চুচুড়ায় গঙ্গার ধারের বাগানে ছিলেন। শ্ৰীকণ্ঠবাবু তখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত, তাহার উঠিবার শক্তি ছিল না, চোখের পাত আঙুল দিয়৷ তুলিয়া চোখ মেলিতে হইত। এই অবস্থায় তিনি র্তাহার কন্যার শুশ্রষাধীনে বীরভূমের রায়পুর হইতে চুচুড়ায় আসিয়াছিলেন। বহু কষ্টে একবারমাত্র