পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 o জীবন-স্মৃতি । পিতৃদেবের পদধূলি লইয়। চ’চড়ার বাসায় ফিরিয়া আসেন ও তাল্পদিনেই তাহার মৃত্যু হয়। তাহার কন্যার কাছে শুনিতে পাই আসন্ন মৃত্যুর সময়েও “কি মধুর তব করুণা প্রভে” গানটি গাহিয়া তিনি চিরনীরবতা লাভ করেন। বাংলাশিক্ষার অবসান । আমরা ইস্কুলে ত ন ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের এক ক্লাস নীচে বাংলা পড়িতেছি । বাড়িতে আমরা সে ক্লাসের বাংলা পাঠ্য ছাড়াইয় অনেকদূর অগ্রসর হইয়৷ গিয়াছি। বাড়িতে আমরা অক্ষয়কুমার দত্তের পদার্থবিদ্য শেষ করিয়াছি, মেঘনাদবধ ও পড়া হইয়া গিয়াছে। পদার্থবিদ্যা পড়িয়াছিলাম, কিন্তু পদার্থের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না, কেবল পুথির পড়া—বিদ্যাও তদনুরূপ হইয়াছিল। সে সময়টা সম্পূর্ণ নাট ই ইয়াছিল । আমার ত মনে হয় নষ্ট হওয়ার চেয়ে বেশি ; কারণ, কিছু না করিয়া যে সময় নষ্ট হয় তাহার চেয়ে অনেক বেশি লোকসান করি কিছু করিয়া যে সময়ট নাট করা যায়। মেঘনাদবধ কাব্যটিও আমাদের পক্ষে অরিামের জিনিষ ছিল না । যে জিনিষটা পাতে পড়িলে উপাদেয় সইটাই মাথায় পড়িলে গুরুতর হইয় উঠতে পারে । ভাষা শিখাইবার জন্য ভাল কাব্য পড়াইলে তরবারা দিয়া ক্ষেীরা করাইবার মত হয়—তরবারার ত অমৰ্য্যাদা হয়ই, গণ্ডদেশেরও বড় গতি ঘটে । কাব্য জিনিষটাকে রসের দিক হইতে পূরাপুরি কাব্য হিসাবেই পড়ানো উচিত, তাহার দ্বারা ফঁকি দিয়া অভিধ নব্যাকরণের কাজ চালাইয়া লওয়া কখনই সরস্বতীর তুষ্টিকর নহে। এই সময়ে আমাদের নৰ্ম্মাল স্কুলের পালা হঠাৎ শেষ হইয়া গেল। তাহার একটু ইতিহাস আছে। আমাদের বিদ্যালয়ের কোনো একজন শিক্ষক কিশোরীমোহন মিত্রের রচিত আমার পিতামহের ইংরেজি জীবনী পড়িতে চাহিয়াছিলেন । আমার সহপাঠী ভাগিনেয় সত্যপ্রসাদ সাহসে ভর করিয়া পিতৃদেবের নিকট হইতে সেই বইখানি চাহিতে গিয়াছিল। সে মনে করিয়াছিল সর্বসাধারণের সঙ্গে সচরাচর যে প্রাকৃত বাংলায় কথা কহিয়া থাকি সেটা