পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাশিক্ষার অবসান । 8X তাহার কাছে চলিবে না। সেইজন্য সাধু গোঁড়ায় ভাষায় এমন অনিন্দনীয় রীতিতে সে বাক্যবিন্যাস করিয়াছিল যে পিতা বুঝিলেন আমাদের বাংলাভাষা অগ্রসর হইতে হইতে শেষকলে নিজের বাংলাকেই প্রায় ছাড়াইয়। যাইবার জো করিয়াছে। পরদিন সকালে যখন যথানিয়মে দক্ষিণের বারান্দায় টেবিল পাতিয়া দেয়ালে কালে বোর্ড ঝুলাইয়। নীলকমল বাবুর কাছে পড়িতে বসিয়াছি এমন সময় পিতার তেতালার ঘরে তামাদের তিনজনের ডাক পড়িল । তিনি কহিলেন, আজ হইতে তোমাদের আর বাংলা পড়িবার দরকার নাই । খুসিতে আমাদের মন নাচিতে লাগিল । তখনো নীচে বসিয়া আছেন আমাদের নীলকমল পণ্ডিত মহাশয় ; বাংলা জ্যামিতির বইখানা তখনে খোলা এবং মেঘনাদবধকাব্যথানা বোধ করি পুনরাবৃত্তির সঙ্কল্প চলিতেছে। কিন্তু মৃত্যুকালে পরিপূর্ণ ঘরকন্নার বিচিত্র আয়োজন মানুষের কাছে যেমন মিগা প্রতিভাত হয়, আমাদের কাছেও পণ্ডিতমশায় হইতে আরম্ভ করিয়া আর ঐ বোর্ড টাঙাইবার পেরেকটা পর্যন্ত তেমনি এক মুহূৰ্বে মায়ামরীচিকার মত শূন্য হইয়া গিয়াছে। কি রকম করিয়া যথোচিত গান্তীর্ঘ রাখিয়া পণ্ডিত মহাশয়কে আমাদের নিস্কৃতির খবরটা দিব সেই এক মুস্কিল হইল। সংযতভাবেই সংবাদটা জানাইলাম । দেয়ালে টাঙানো কালে বোর্ডের উপরে জ্যামিতির বিচিত্র রেখাগুলা আমাদের মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকাইয়া রহিল —যে মেঘনাদবধের প্রতোক অক্ষরটিই আমাদের কাছে অমিত্র ছিল সে তাজ এতই নিরীহভাবে টেবিলের উপর চিৎ হইয়া পড়িয়া রক্ষিল যে তাহাকে আজ মিত্র বলিয়া কল্পনা করা অসম্ভব ছিল না। বিদায় লইবার সময় পণ্ডিতমশায় কহিলেন—কর্তৃব্যের অনুরোধে তোমাদের প্রতি অনেক সময় অনেক কঠোর ব্যবহার করিয়াছি সেকথা মনে রাখিয়োনা । তোমাদের যাহা শিখাইয়াছি ভবিষ্যতে তাহার মূল্য বুঝিতে পারিবে । মূল্য বুঝিতে পারিয়াছি। ছেলেবেলায় বাংলা পড়িতেছিলাম বলিয়াই সমস্ত মনটার চালনা সম্ভব হইয়াছিল। শিক্ষণ জিনিষটা যথাসম্ভব আহার