পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাশিক্ষার অবসান । 83) উপরে খানিকট কলা থেতলাইয়া দিয়া কোথায় অন্তৰ্হিত হইত ঠিকনা পাওয়া যাইত না ; কখনো বা ধর্ণ করিয়া মারিয়া অত্যন্ত নিরীহ ভালমানুষটির মত অন্যদিকে মুখ করিয়া থাকিত, দেখিয় পরম সাধু বলিয়া বোধ হইত। এ সকল উৎপীড়ন গায়েই লাগে মনে ছাপ দেয় না,—এ সমস্তই উৎপাতমাত্র, অপমান নহে ! তাই আমার মনে হইল এ যেন পাকের থেকে উঠিয় পাথরে পা দিলাম—তাহাতে পা কাটিয় যায় সেও ভাল, কিন্তু মলিনত হইতে রক্ষা পাওয়া গেল। এই বিদ্যালয়ে আমার মত ছেলের একটা মস্ত সুবিধা এই ছিল যে, আমরা যে লেখাপড় করিয়া উন্নতি লাভ করিব সেই অসম্ভব তুরাশা আমাদের সম্বন্ধে কাহারো মনে ছিল না । ছোট স্কুল, তার অল্প, স্কুলের অধ্যক্ষ আমাদের একটি সদগুণে মুগ্ধ ছিলেন—আমরা মাসে মাসে নিয়মিত বেতন চুকাইয়া দিতাম। এইজন্য লাটিন ব্যাকরণ আমাদের পক্ষে দুঃসহ হইয় উঠে নাই এবং পাঠচর্চার গুরুতর ত্রটিতেও আমাদের পৃষ্ঠদেশ অনান্তত ছিল । বোধ করি বিদ্যালয়ের মিনি অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি এ সম্বন্ধে শিক্ষকদিগকে নিষেধ করিয়া দিয়াছিলেন —আমাদের প্রতি মমতাই তাহার কারণ নহে । এই ইস্কুলে উৎপাত কিছুই ছিল না, তবু হাজার হইলেও ইহা ইস্কুল । ইহার ঘরগুলা নিৰ্ম্মম, ইহার দেয়ালগুলা পাহারাওয়ালার মত,—ইহার মধ্যে বাড়ির ভাব কিছুই নাই—ইং খোপওয়ালা একটা বড় বাক্স । কোথাও 疊

مدا ...ఈ কোনও সজ্জা নাই, ছবি নাই, রং নাই, ছেলেদের হৃদয়কে আকর্ষণ করিবার 9 3. き লেশমাত্র টেস্ট নাই । ছেলেদের যে ভাল মন্দ লাগা বলিয়া একটা খুব মস্ত জিনিষ আছে বিদ্যালয় হইতে সেই চিন্ত একেবারে নিঃশেষে নির্বর্বাসিত । সেইজন্য বিদ্যালয়ের দেউড়ি পার হইয় তাহার সঙ্কীর্ণ আঙিনার মধ্যে পা দিবামা ন তৎক্ষণাৎ সমস্ত মন বিমৰ্ষ হইয়া যাইত—অতএব ইস্কুলের সঙ্গে আমার সেই পালাইবার সম্পর্ক আর ঘুচিল না । পলায়নের একটি সহায় পাইয়াছিলাম। দাদার একজনের কাছে পার্সি পড়িতেন–র্তাহাকে সকলে মুন্সী বলিত—নামটা কি ভুলিয়াছি। লোকটি প্রৌঢ়–অস্থিচৰ্ম্মসার। র্তাহার কঙ্কলটাকে যেন একথান কালো মোমজম