পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাশিক্ষার অবসান । 8(? কাঠিতে মাপিয়া থাকি, ভুলিয়া যাই যে, ছোট ছেলেরা নির্বারের মত বেগে চলে ;–সে জলে দোষ যদি স্পর্শ করে তবে হতাশ হইবার কারণ নাই, কেন না সচলতার মধ্যে সকল দোষের সহজ প্রতিকার আছে ; বেগ যেখানে থামিয়াছে সেইখানেই বিপদ,—সেইখানেই সাবধান হওয়া চাই । এইজস্য শিক্ষকদের অপরাধকে যত ভয় করিতে হয় ছাত্রদের তত নহে । জাত বঁাচাইবার জন্য বাঙালী ছাত্রদের একটি স্বতন্ত্র জলখাবারের ঘর ছিল। এই ঘরে দুই একটি ছাত্রের সঙ্গে আমাদের আলাপ হইল । তাহাদের সকলেই আমাদের চেয়ে বয়সে অনেক বড় । তাহাদের মধ্যে একজন কাফি রাগিণীটা খুব ভালবাসিত এবং তাহার চেয়ে ভালবাসিত শ্বশুরবাড়ির কোনো একটি বিশেষ ব্যক্তিকে—সেই জন্য সে ঐ রাগিণীটা প্রায়ই আলাপ করিত এবং তাহার অন্য তালাপটার ও বিরাম ছিল না । আর একটি ছাত্রসম্বন্ধে কিছু বিস্তার করিয়া বলা চলিবে । তাহার বিশেষত্ব এই যে, ম্যাজিকের সখ তাহার অত্যন্ত বেশি । এমন কি, ম্যাজিক সম্বন্ধে একখানি চটি বই বাহির করিয়৷ সে আপনাকে প্রোফেসর উপাধি দিয়া প্রচার করিয়াছিল। ছাপার বইয়ে নাম বাহির করিয়াছে এমন ছাত্রকে ইতিপূৰ্বে আর কখনো দেখি নাই। এজন্য অন্তত মাজিকবিদ্যা সম্বন্ধে তাহার প্রতি আমার শ্রদ্ধা গভীর ছিল । কারণ, চাপ অক্ষরের খাড়া লাইনের মধ্যে কোনোরূপ মিথা চালানো যায় ইহা অামি মনেই করিতে পারিতাম না । এ পর্য্যন্ত ছাপার অক্ষর আমাদের উপর গুরুমহাশয়গিরি করিয়া আসিয়াছে এইজন্য তাহার প্রতি আমার বিশেষ সস্ত্রম ছিল । যে কালী মোছে না, সেই কালাতে নিজের রচনা লেখা —এ কি কম কথা ! কোথাও তার আড়াল নাই, কিছুই তার গোপন করিবার জো নাই—জগতের সম্মুখে সার বাধিয়া সীধা দাড়াইয় তাহাকে আত্মপরিচয় দিতে হইবে—পলায়নের রাস্তা একেবারেই বন্ধ, এতবড় অবিচলিত আত্মবিশ্বাসকে বিশ্বাস না করাই যে কঠিন । বেশ মনে আছে ব্রাহ্মসমাজের ছাপাখানা অথবা আর কোথাও হইতে একবার নিজের নামের দুই একটা ছাপার অক্ষর পাইয়াছিলাম। তাহাতে কালী