পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ᏚᏬ জীবন-স্মৃতি । মাখাইয়া কাগজের উপর টিপিয়া ধরিতেই যখন ছাপ পড়িতে লাগিল তখন সেটাকে একটা স্মরণীয় ঘটনা বলিয়া মনে হইল । সেই সহপাঠী গ্রন্থকার বন্ধুকে রোজ আমরা গাড়ী করিয়া ইস্কুলে লইয় যাইতাম । এই উপলক্ষ্যে সৰ্ব্বদাই আমাদের বাড়িতে তাহার যাওয়াআস। ঘটতে লাগিল । নাটক অভিনয় সম্বন্ধেও তাহার যথেষ্ট উৎসাহ ছিল । তাহার সাহায্যে আমাদের কুস্তির আখড়ায় একবার আমরা গোটাকত বাখারি পুতিয় তাহার উপর কাগজ মারিয়া নানা রঙের চিত্র অশকিয় একটা ষ্টেজ খাড়া করিয়াছিলাম। বোধ করি উপরের নিষেধে সে স্টেজে অভিনয় ঘটিতে পারে নাই । কিন্তু বিনা স্টেজেই একদা একটা প্রহসন অভিনয় হইয়াছিল। তাহার নাম দেওয়া যাইতে পারে ভ্রান্তিবিলাস । যিনি সেই প্রহসনের রচনাকর্তা পাঠকের তাহার পরিচয় পূর্বেই কিছু কিছু পাইয়াছেন । তিনি আমার ভাগিনেয় সত্য প্রসাদ । তাহার ইদানীন্তন শান্ত সৌম্য মূৰ্ত্তি র্যাহারা দেখিয়াছেন তাহারা কল্পনা করিতে পরিবেন না বাল্যকালে কৌতুক স্থলে তিনি সকল প্রকার অঘটন ঘটাইবার কিরূপ ওস্তাদ ছিলেন। যে সময়ের কথা লিখিতেছিলাম ঘটনাটি তাহার পরবর্তী কালের । তখন আমার বয়স বোধ করি বারো তেরে হইবে । আমাদের সেই বন্ধু সৰ্বদ দ্রব্যগুণসম্বন্ধে এমন সকল আশ্চর্য্য কথা বলিত যাহা শুনিয়া তামি একেবারে স্তম্ভিত হইয়া যাইতাম—পরীক্ষা করিয়া দেখিবার জন্য আমার এত ঔৎসুক্য জন্মিত যে আমাকে অধীর করিয়া তুলিত । কিন্তু দ্রব্যগুলি প্রায়ই এমন দুর্লভ ছিল যে সিন্ধুবাদ নাবিকের অনুসরণ না করিলে তাহ পাইবার কোনো উপায় ছিল না । একবার নিশ্চয়ই অসতর্কতাবশত প্রোফেসর কোনো একটি অসাধ্যসাধনের অপেক্ষাকৃত সহজ পন্থা বলিয়া ক্ষেলাতে আমি সেটাকে পরীক্ষা করিবার জন্য কৃতসঙ্কল্প হইলাম। মনসাসিজের আট একুশবার বীজের গায়ে মাখাইয়া শুকাইয় লইলেই যে সে বীজ হইতে এক ঘণ্টার মধ্যেই গাছ বাহির হইয়া ফল ধরিতে পারে এ কথা কে জানিত । কিন্তু যে প্রোফেসর