পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলাশিক্ষার অবসান । 8 ছাপার বই বাহির করিয়াছে তাহার কথা একেবারে অবিশ্বাস করিয়া উড়াইয়া দেওয়া চলে না । আমরা আমাদের বাগানের মালীকে দিয়া কিছুদিন ধরিয়া যথেষ্ট পরিমাণে মনসাসিজের আট সংগ্ৰহ করিলাম এবং একটা আমের অণটির উপর পরীক্ষা করিবার জন্য রবিবার ছুটির দিনে আমাদের নিভৃত রহস্য-নিকেতনে তেতালার ছাদে গিয়া উপস্থিত হইলাম । আমি ত এক মনে তাণটিতে ত্যাঠা লাগাইয়া কেবলি রৌদ্রে শুকাইতে লাগিলাম—তাহাতে যে কিরূপ ফল ধরিয়ছিল নিশ্চয়ই জানি বয়স্ক পাঠকেরা সে সম্বন্ধে কোনো প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করিবেন না। কিন্তু সত্য তেতালার কোন একটা কোণে এক ঘণ্টার মধ্যেই ডালপালাসমেত একটা অদ্ভুত মায়াতরু যে জাগাইয়া তুলিয়াছে আমি তাহার কোনো খবরই জানিতাম না। তাহার ফলও বড় বিচিত্র হইল । এই ঘটনার পর হইতে প্রোফেসর যে আমার সংস্রব সসঙ্কোচে পরিহার করিয়া চলিতেছে তাহা আমি অনেকদিন লক্ষ্যই করি নাই । গাড়িতে সে আমার পাশে আর বসে না, সর্বত্রই সে আমার নিকট হইতে কিছু যেন দূরে দূরে চলে । একদিন হঠাৎ আমাদের পড়িবার ঘরে মধ্যাহ্লে সে প্রস্তাব করিল, এস, এই বেঞ্চের উপর হইতে লাফাইয়া দেখা যাক কাহার কিরূপ লাফাইবাব প্রণালী। আমি ভাবিলাম স্থষ্টির অনেক রহস্যই প্রোফেসরের বিদিত, বোধ করি লাফানো সম্বন্ধেও কোনো একটা গুঢ়তত্ত্ব তাহার জানা আছে । সকলেই লাফাইল আমিও লাফাইলাম। প্রোফেসর একটি অন্তররূদ্ধ অব্যক্ত হু’ বলিয়া গম্ভীরভাবে মাথা নাড়িল । অনেক আমুনয়েও তাহার কাছ হইতে ইহা অপেক্ষ ফুটতর কোনো বাণী বাহির করা গেল না। একদিন যাদুকর বলিল, কোনো সস্ত্রান্ত বংশের ছেলেরা তোমাদের সঙ্গে আলাপ করিতে চায় একবার তাহাদের বাড়ি যাইতে হইবে । অভিভাবকেরা আপত্তির কারণ কিছুই দেখিলেন না, আমরাও সেখানে গেলাম।