পাতা:জীবন-স্মৃতি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


6 е জীবন-স্মৃতি । মেণ্টের চিরন্তন জুজু রাশিয়ান কর্তৃক ভারত-আক্রমণের আশঙ্কা লোকের মুখে আলোচিত হইতেছিল। কোনো হিতৈষিণী আত্মীয়া আমার মায়ের কাছে সেই আসন্ন বিপ্লবের সম্ভাবনাকে মনের সাধে পল্লবিত করিয়া বলিয়াছিলেন । পিতা তখন পাহাড়ে ছিলেন। তিববত ভেদ করিয়৷ হিমালয়ের কোন একটা ছিদ্রপথ দিয়া যে রুশয়েরা সহসা ধূমকেতুর মত প্রকাশ পাইবে তাহ। ত বলা যায় না । এই জন্ত মার মনে অত্যন্ত উদ্বেগ উপস্থিত হইয়াছিল । বাড়ির লোকেরা নিশ্চয়ই কেহ তাহার এই উৎকণ্ঠার সমর্থন করেন নাই। মা সেই কারণে পরিণতবয়স্ক দলের সহায়তালাভের চেষ্টায় হতাশ হইয়া শেষকালে এই বালককে আশ্রয় করিলেন । আমাকে বলিলেন—“রাশিয়ানদের খবর দিয়া কৰ্ত্তাকে একখানা চিঠি লেখ ত !” মাতার উদ্বেগ বহন করিয়া পিতার কাছে সেই আমার প্রথম চিঠি । কেমন করিয়া পাঠ লিখিতে হয় কি করিতে হয় কিছুই জানি না। দফতরখানায় মহানন্দ মুন্সর শরণাপন্ন হইলাম। পাঠ যথাবিহিত হইয়াছিল সন্দেহ নাই। কিন্তু ভাষাটাতে জমিদারা সেরেস্তার সরস্বতী যে জীর্ণ কাগজের শুষ্ক পদ্মদলে বিহার করেন তাহারই গন্ধ মাথানে ছিল। এই চিঠির উত্তর পাইয়াছিলাম। তাহাতে পিতা লিখিয়াছিলেন—ভয় প্রবল আশ্বাসবাণীতেও মাতার রাশিয়ানভীতি দূর হইল বলিয়া বোধ হইল না— কিন্তু পিতার সম্বন্ধে আমার সাহস খুব বাড়িয়া উঠিল । তাহার পর হইতে রোজই আমি তাহাকে পত্র লিখিবার জন্য মহানন্দের দফতরে হাজির হইতে লাগিলাম। বালকের উপদ্রবে অস্থির হইয়া করেক দিন মহানন্দ খসড়া করিয়া দিল । কিন্তু মাশুলের সঙ্গতি ত নাই। মনে ধারণা ছিল মহানন্দের হাতে হইবে না—চিঠি অনায়াসেই যথাস্থানে গিয়া পৌঁছিবে । বলা বাহুল্য মহানন্দের বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং এ চিঠিগুলি হিমাচলের শিখর পর্য্যন্ত পৌঁছে নাই । বহুকাল প্রবাসে থাকিয়া পিতা অল্প কয়েক দিনের জন্য যখন কলিকাতায়